করোনায় হবিগঞ্জে এ পর্যন্ত ৬৩ জন পুলিশ সদস্য আক্রান্ত ও সুস্থ হয়েছে ২২ জন

 সুশীল চন্দ্র দাস, হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: হবিগঞ্জ জেলায় এ পর্যন্ত ৬৩ জন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তবে জেলায় আক্রান্তদের মধ্যে ২২ জন পুলিশ সদস্য ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। বাকিরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাধিন রয়েছেন। জেলা পুলিশ সুপার অফিস থেকে জানা যায়- হবিগঞ্জ জেলায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পর্যন্ত ৪০৬ জনের নমুনা পরিক্ষা করা হয়।

এর মধ্যে ৬৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। ইতোমধ্যে জেলায় ২২ জন পুলিশ সদস্য করোনাকে জয় করে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। বাকি ৪১ জনের মধ্যে আইসোলেশনে রয়েছেন ২৮ জন এবং আইসোলেশন থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১৩ জন। এদিকে, সুরক্ষা সরঞ্জামের মধ্যে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে- পুলিশ পিপিই ৭৫০টি, কাপড়েরর তৈরী পিপিই ১৫০টি, সার্জিক্যাল পিপিই ৮৮৬টি, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ৫৬৯টি, কাপড়ের হ্যান্ড গ্লাবস ২০ জোড়া, পলিথিনের হ্যান্ড গ্লাবস ২৮ হাজার ৯শ পিস, পলিথিনের সু কাভার ৬২ জোড়া, ফেইস শীল্ড ১ হাজার ১৬৪টি, সুইমিং চশমা ১২টি, কাপড়ের তৈরী মাস্ক ৪৪০টি, ব্লিচিং পাউডার ৬০ কেজি, সার্জিক্যাল গ্লাবস ৬ হাজার পিস, স্প্রে ম্যাশিন ১৭টি, সেভলন ৪২টি, সার্জিক্যাল কেপ ৫৬টি, সার্জিক্যাল মাস্ক ৬ হাজার পিস, অন্যান্য কাপড়ের মাস্ক ১২ হাজার ৪শ’ টি, ইলেকট্রনিক মার্থোমিটার ৬টি, হ্যাক্লিসল ১৭০টি, নেভোলাইজার মেশিন ১টি, হাই প্রটেক্টর ৩৫০টি, পুলিশ মাস্ক ৩ হাজার পিস, ডেটল সাবান ৪শ’টি, হ্যান্ডওয়াশ লিকুইড ১৫টি, ম্যান্ডওয়াশ পাম ৩টি, কেএন-৯৫ মাস্ক ৫৫টি, ক্লোটেক্ট ৩টি, দুধ ৫শ’ মিলি ১ হাজার ৪৫০ প্যাকেট। হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বলেন ‘করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকেই হবিগঞ্জের পুলিশ মাঠ পর্যায়ে কঠোর পরিশ্রম করে আসছে। বিদেশ ফেরত প্রবাসী ও তাদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে দিনরাত পরিশ্রম করেছে।

এছাড়া লকডাউন সফল করতে এবং সাধারণ মানুষকে শারীরি দূরত্ব বজায় রাখতে মাঠে ২৪ ঘন্টা কার করেছে। শুধু তাই নয়, রাত-বিরাতে অসহায় মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিয়েছে জেলা পুলিশ।’ তিনি বলেন- ‘হবিগঞ্জের মানুষকে করোনা থেকে মুক্ত রাখতে গিয়ে আমাদের অনেক পুলিশ সদস্য করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চুনারুঘাট, মাধবপুর ও আজমিরীগঞ্জ থানার ইনচার্জসহ জেলার ৬৩ জন পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এরপরও পুলিশ সদস্যরা ভয় পায়নি। এখন তারা করোনা সংক্রামণ ঠেকাতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।’ পুলিশ সুপার বলেন‘পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তায়ও আমরা বিশেষ ভুমিকা পালন করেছি। বেশ কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছি। জীবাণুমুক্তকরণ স্পের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক পুলিশ সদস্যদের একাধিক মাস্ক, পিপিইসহ যাবতীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রদান করা হয়েছে।