করোনায় শনাক্ত সংখ্যা বাড়ছে, কমছে মানুষের সতর্কতা

এলাকাভিত্তিক কৌশল কার্যকর নয়, সব রেডজোন একসাথে লকডাউনের পরামর্শ।

এলাকাভিত্তিক লক ডাউন, সাধারণ ছুটি।  নানান কৌশল বা পদক্ষেপ কোন কিছু কাজে আসছে না। সাড়ে চার মাসেও রাশ টানা যায়নি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। বরং সময়ের সাথে পুরোনো চেহারায় ফিরছে জীবনযাত্রা, কমছে মানুষের সতর্কতাও।

প্রায়-দিনই শনাক্তের সংখ্যায় ভাঙছে আগের রেকর্ড। ব্যবধান বাড়ছে সংক্রমণ আর সুস্থ্যতার হারের মধ্যেও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একযোগে সবগুলো রেডজোন লকডাউন না করলে, এলাকাভিত্তিক কার্যক্রমে কোন সুফল মিলবে না।

সময়ের সাথে বেড়েছে নমুনা সংগ্রহ আর যাচাইয়ের ল্যাব। কিন্তু তাতেও কুলোচ্ছে না। যত দিন যাচ্ছে ততই লম্বা হচ্ছে করোনা পরীক্ষার লাইন। তবুও সময়ের সাথে মানুষের সতর্কতায়ও ভাটা পড়েছে। সংক্রমন, সুস্থ্য আর প্রাণহানীর সংখ্যা এখন যেন স্রেফ পরিসংখ্যান।

অথচ ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে, নানা সময়ে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে, সিমীত আকারে চালু হয়েছে অর্থনৈতিক কার্যক্রম। তাতে  দোকান পাটের কেনাবেচার সময়ও বেলা চারটা থেকে বেড়ে সন্ধ্যা ৭টা হয়েছে।

আবার এলাকা ভিত্তিক লকডাউনের কৌশলও নিয়েছে সরকার। কিন্তু সংক্রমণের চিত্র বলছে, বাশের বেড়ার বাধা মানছেনা করোনাভাইরাস।

আইইডিসিআর পরামর্শক ডা. মুশতাক হোসেন বলেন,এভাবে করলে সংক্রমণের সংখ্যা কমবে না। রেড, গ্রিন, ইয়োলা জোন সব একসাথে করতে হবে। একটার পর একটা করলে যে এলাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে তারা আবার সংক্রমিত হবে।

আরও শঙ্কার বিষয় শনাক্ত হওয়া রোগীদের তুলনায় সুস্থ্য হওয়াদের হার ক্রমশ কমছে বলে জানান ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন,আমরা সুস্থের হার যেটি দেখি সেটি হচ্ছে আমাদের টেলিফোন করে যারা জানিয়েছে তারা। কিন্তু এর বাইরেও অনেকেই সুস্থ হচ্ছেন।তাদের তথ্য নিশ্চিত না হয়ে বলা যাচ্ছে না। আমার কাছে সুস্থতার হার অনেক কম মনে হচ্ছে। যারা মৃত্যুবরণ করেছেন এবং হাসপাতালে আছেন তারা ব্যতিত প্রায় সবাই সুস্থ।

সংক্রমণ সংখ্যায় বিশ্বে বাংলাদেশ এখন ১৮ তম দেশ।