করোনায় মৃত উপ কর কমিশনার সুধাংশু কুমার সাহার সৎকার নিয়ে ভ্রান্ত সংবাদ প্রকাশ

পারভেজ আলী, বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ)প্রতিনিধি:  সিরাজগঞ্জের বেলকুচির কৃতি সন্তান ঢাকা অঞ্চল ৩ এর উপ কর কমিশনার শুধাংসু কুমার সাহা গত ৮ জুন করোনা ভাইরাস (কেভিড ১৯) আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এন্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু বরন করেন । তার সৎকার নিয়ে দেশের সনাধন্য পত্রিকা “কালের কন্ঠ” সহ বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে যে সংবাদটি প্রকাশ হয়েছে তা সম্পূর্ণ মন গড়া বলে দাবী করেছেন তার পরিবার ও স্ত্রী মানসী দাস।

মানসী দাস মুঠোফোনে প্রতিবেদককে জানান,বিভিন্ন পত্রিকায় আমার স্বামীর সৎকার নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মনগড়া। কোন সংবাদকর্মী এ বিষয়ে আমার সাথে কথা বলেননি। আমি ছোট বেলায় আমার বাবাকে হারিয়েছি। আর আমার স্বামী মারা যাওয়াতে আমার ছোট্ট মেয়ে তার বাবাকে হারালো। তাই আমাদের দুই পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমার বাবাকে যেখানে সৎকার করা হয়েছিল সেখানেই আমার স্বামীকে সৎকার করা হয়। যাতে আমার মেয়ে বড় হয়ে বাবার স্মৃতিকে দেখতে পায়। এদিকে উপ কর কমিশনার প্রয়াত শুধাংসু কুমার সাহার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকার (গাড়ামাসি) গ্রামের ওয়ার্ড কাউন্সিলর আয়নাল হক জানান, আমি উপ কর কমিশনার শুধাংসুর মৃত্যুর সংবাদটি জানতে পেরে তার বড় ভাইয়ের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেছিলাম।

তারপর তার সৎকার কোথায় হবে এ বিষয়ে তার বাবা মায়ের কাছে জানতে চাইলে তারা আমাকে বলেন পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে সৎকার করা হবে। পরে আমি শুধাংসু করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয় থানা অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত ই জাহানকে জানাই। তারা এই বিষয়ে অবহিত হওয়ার পর আমাকে বলেন আপনি তার পরিবারের সাথে কথা বলেন। মৃত ব্যক্তির কোথায় সৎকার করা হবে নিশ্চিত হয়ে আমাদের অবহিত করবেন। আমরা সে ভাবেই প্রস্তুতি নেব। পরবর্তীতে আমি তার পরিবারের সাথে ও স্ত্রী মানসীর সাথে কথা বলে জানতে পারি তার সৎকারের কাজ করা হবে শ্বশুর বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাঁটাইলে।

পরে তাকে তার পরিবার ও স্ত্রীর সম্মতিক্রমে ঘাটাইলেই তার সৎকার করা হয়। অপরদিকে বেলকুচি থানা অফিসার ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমি উপ কর কমিশনারের মৃত্যুর বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলরের মাধ্যমে জানতে পেরে তাকে বলেছিলাম করোনায় মৃত ব্যক্তির সৎকারে পুলিশ সহযোগিতা করবে। বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত ই জাহান প্রতিবেদককে জানান, শুধাংসু কুমার সাহা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কর্তৃক আমাকে অবহিত করা হয়। জানানো হয় যে, মৃত ব্যক্তির লাশ সৎকার বেলকুচিতে বা অন্য কোথায় করা হবে, সে বিষয়টি তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

তদপ্রেক্ষিতে পারিবারিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক লাশটি যদি বেলকুচিতে আনা হয় তাহলে বিষয়টি আমাকে অবহিত করণের জন্য ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে বলা হয় এবং জানানো হয় যে, এরূপ ক্ষেত্রে উপজেলার সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে লাশ সৎকারের সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য যে,মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন যোগাযোগ করা হয়নি। পরবর্তীতে জানা যায় যে, মৃতের শ্বশুর বাড়ী টাংগাইলের ঘাটাইলে লাশ সৎকার করা হয়েছে। বেলকুচিতে লাশ গ্রহণ করা হয়নি মর্মে সামাজিক গোযাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ গণমাধ্যমে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয়। পরিবারিক সিদ্ধান্ত মোতাবেক শুধাংসু কুমার সাহার লাশটি বেলকুচিতে আনা হয়নি এবং টাংগাইলের ঘাটাইলে সৎকার করা হয়েছে।