করোনায় মৃতদেহ সৎকারে বিপাকে বিশ্বের সব দেশ

প্যারিস থেকে নিউইয়র্ক, সাও পাওলো থেকে জাকার্তা, করোনায় মৃতদের সৎকার নিয়ে বিপাকে বিশ্বের সব দেশই। মৃতদের জায়গা দিতে হিমশিম খাচ্ছে নিউইয়র্কের সৎকারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। অধিকাংশ ফিউনারেল হোমই মরদেহের সৎকারে এগিয়ে আসছে না। আবার কোথাও ফিউনারেল হোমের গাড়ি রাখার গ্যারেজ পরিণত হচ্ছে কফিনের স্তুপে।

একের পর এক ফোন কলে দিশেহারা ব্রুকলিনের ফিউনারেল সার্ভিসের কর্ণধার প্যাট মারমো। মৃতদেহ সৎকার নিয়ে নিজের অপারগতা স্বীকার করেন তিনি। এছাড়া কিইবা করার আছে প্যাটের। তার প্রতিষ্ঠান যেখানে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ষাটটি মৃতদেহ সংরক্ষণ করতে পারে, সেখানে একদিনে প্রায় দুশো

জনের শেষকৃত্য কীভাবে সম্ভব? যার মধ্যে আশি শতাংশই মারা গেছেন করোনায়। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান লাশ সৎকারের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করায় সঙ্কট আরো বেড়েছে।

নিউইয়র্ক ফিউনারেল সার্ভিসের স্বত্বাধিকারী প্যাট মারমো জানান, এত লাশ রাখার মত স্ট্রেচার আমাদের নেই। আছে স্থান সঙ্কট। মৃতদের শেষকৃত্ব ভালোভাবে করার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হচ্ছে। সরকারের সাহায্য ছাড়া আমরা নিরুপায়।

শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয়, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্সের মত উন্নত দেশগুলোও এখন একেকটা মৃত্যু পুরী। প্রাণহানি পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলায় সৎকারকারী প্রতিষ্ঠান গুলোর গাড়ীর গ্যারেজ পরিনত হয়েছে কফিন স্তুপে। স্থান সংকুলান না হওয়ায় প্রতিদিন ২০০ কফিন রাখা হচ্ছে বার্সেলোনার মেমোরা ফিউনারেল হোমের গ্যারেজে। তাপামাত্রা কমাতে নতুন ভাবে বসানো হয়েছে এয়ার কন্ডিশনার।

মৃত্যুর মিছিল যতটা বড় ঠিক ততটাই যেনো নি:স্ব একাকী তাদের সৎকারও। কারণ প্রকোপ ঠেকাতে রীতিমত শেষকৃত্যে কেবল একজন স্বজনের উপস্থিত থাকার নিয়ম করেছে অনেক দেশ।

আসন্ন ভয়াবহতায় প্রস্তুত সাওপাওলোর ভিলা ফারমোসা সিমেট্রি। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে বড় গোরস্থানটি আগে থেকেই খুড়ে রাখছে ব্রাজিল সরকার। প্রতিদিন যেখানে ত্রিশ শতাংশ করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। ধর্মীয় অনুশাসন মেনে মুসলমানদের দাফন করতেও বিপাকে পড়েছে বিভিন্ন দেশ।