করোনায় ধস নেমেছে কুলিয়ারচরের শুটকি পল্লীতে

 জয়নাল আবেদীন রিটন, ভৈরব প্রতিনিধি: মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ধ্বস নেমেছে শুটকি পল্লীতে। পাইকার না আসায় উৎপাদিত শুটকি বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছে শুটকি উৎপাদনকারিরা। ফলে লোকসানের মুুখে পড়েছে শুটকি ব্যবসায়ীরা। মহাজনদের কাছ থেকে নেয়া লগ্নির টাকা পরিশোধ করতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে শ্রমিকরা। আর ব্যাংক থেকে নেয়া লোন পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন মহাজনরাও। করোনার কারণে বেচা বিক্রি না থাকায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে এখানকার শুটকি উৎপাদনে সংশ্লিষ্ট নারী পুরুষ সহ প্রায় ৩ হাজার লোক।

হিমাগার না থাকায় উৎপাদিত শুুটকি নষ্ট হওয়ায় মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির সন্মুখিন হচ্ছেন তারা ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায়ও শুটকি উৎপাদন ও বাজারজাত করনে সরকারি প্রণোদনা প্যাকেজের লোন পেতে শুটকি ব্যাবসায়ীদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে বলে জানান কুলিয়ারচর মৎস্য কর্মকর্তা। সরেজমিনে দেখা যায়, কুলিয়ারচর উপজেলার কালি নদীর তীর ঘেসে দাশপাড়া নামক স্থানে গড়ে উঠা শুটকি পল্লীতে মিঠা পানির দেশিয় প্রজাতির মাছের শুুটকি উৎপাদিত হয়। আর ্এ শুটকি উৎপাদন করতে এখানে গড়ে উঠেছে ছোটবড় মিলিয়ে প্রায় ১৭৫টি শুটকি তৈরির ডাঙ্গি ( বাঁশের তৈরি ) মাচা।

একেকটি ডাঙ্গিতে প্রায় ৫০ থেকে শতাধিক শ্রমিকও কাজ করে থাকে । এ সকল ডাঙ্গিতে বছরে প্রায় ৭৫০ মেট্রিক টন শুটকি উৎপাদিত হয়। যার আনুমানিক মূল্য দাড়ায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকা। এ মুটকি পল্লীতে বেশির ভাগই চ্যাপা পুটি মাছের শুটকি তৈরি করা হয়। যা ভারতে এক চেটিয়া বাজার দখল করেছে। এছাড়ও কাচকি, বোয়াল , গজারসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দিয়েও শুটকি উৎপাদন করা হয়। এ শুটকি দেশের বাজার ছাড়াও ভারত , মালয়েশিয়া, সিংগাপুর , আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশেও রপ্তানী করা হতো। করোনার কারণে এখন আর তা সম্ভব হচ্ছেনা। জীবিকার তাগিদে তাদের বাপ দাদার এ পেশাকে আবারো সচল করতে গত তিন মাস পুর্বে স্বল্প পরিস্বরে শুটকি উৎপাদন শুরু করেছেন।

কয়েকজন ব্যাসায়ী জানান, এরা মহাজনদের কাছ থেকে টাকা লগ্নি করে কিছু ইন্টারেষ্টের ওপরে টাকা এনে থাকে। ব্যবসায়ীরা বলছেন আমাদের তেমন একটা পুজি নেই। সব টাকাই ইন্টারেষ্টের ওপরে মহাজনদের কাছ থেকে লগ্নি করে নেয়া। এ ছাড়া আমাদের কাছ থেকে সরকার যে ট্যাক্স নেয় তা যদি একটু কমিয়ে দেয় তাহলে আমরা আপাতত কোন রকমে বেচে যাব। কুলিয়ারচর মাছ ও সুটকি সমবায় সমিতি সভাপতি গৌরাঙ্গ চন্দ্র দাশ বলেন, সরকারের কাছে তাদের দাবী বিনা সুধে যদি সরকার্ িঋণ পাওয়া যায় এবং শুটকি সংরক্ষনের জন্য একটি হিমাগার তৈরি করে দেয় তাহলে কুলিয়ারচরের শুুটকি এক সময় বিশ্ব বাজারে সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে আর অর্জিত হবে বৈদেশিক মুদ্রা।

কুলিয়ারচর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো ঃ জাহাঙ্গীর আলম মৎস্য অফিস বলছেন,ক্ষতিগ্রস্থ শুটকি উৎপাদনকারিদের সরকারের এসেমিকো লোন পেতে এবং মানসম্মত শুুটকি উৎপাদনে নিয়মিত তদারকি,পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও শুটকি উৎপাদনকারিদের একটা তালিকা তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে নতুন একটি প্রকল্প প্রনয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে মৎস্য অধিদপ্তরের। করোনাকালে শুঁটকি উৎপাদন বন্ধ থাকায় শুটকির বাজারের এ মন্দাভাব কাটিয়ে উঠতে আগামী মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে হবে বলছেন সংশ্লিষ্ঠরা।