করোনার ছোবল, বন্যার প্রভাব; না খেয়ে দিন কাটে কাছুয়ার পরিবারের

রফিকুল ইসলাম, রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদ দ্বারা বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল পাইকানটারি পাড়া গ্রামের শহিদ হোসেন ওরফে কাছুয়া। করোনা ও বন্যার প্রভাবে সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস ঘোড়ার গাড়ি টানা বন্ধ আছে ৩ মাস যাবৎ। এতে চরম অভাবের মুখে পরে ওই পরিবার।

দীর্ঘ ৩ মাস ধরে গাড়ি বন্ধ, আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় স্ত্রী সন্তানদের পেটের ক্ষুধা মেটাতে হিমশিম অবস্থা। দোকানদারের কাছে বাকি নিতে নিতে এখন আর দেয় না। ধারকর্জ করে তা শোধ না করার কারনে কেউ আর ধারকর্জও দিতে চায় না। সরেজমিনে ওই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব তথ্য। এছাড়া ৪ জুলাই অন্যের দেয়া কাঁঠাল খেয়ে ওইদিন পার করেছে কাছুয়ার পরিবার। ওইদিন এক মুষ্টি চালও ছিল না তার ঘরে। সরকারি সবধরণের সাহায্য সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত পরিবারের গৃহবধু সাবিনা খাতুন বলেন, ‘মাইনসে কত প্রকার সাহায্য সহযোগিতা পায়। আমরা বাচ্চাকাচ্চা নিয়া না খাইয়া আছি সেটা কেউ দেহে না।

দুস্থ মাতার চাইল নেয় মেলা ধনী মানুষ। আমরা টেহা দিবার পারি না বইলা আমগর কপালে জোটে না। এই যে, করোনা বন্যা গেল আমরা এক ছটাক সাহায্যও পাই নি। এ দুঃখের কথা কার কাছে গিয়া কমু। সাহায্যের নামের কথা কইলেই টেহা চায় মেম্বাররা। ৬ সদস্যের সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস ঘোড়ার গাড়ি দিয়ে মানুষের মালামাল বহন করা। দিনে ৩ থেকে ৪শ’ টাকা আয় হতো। সেটাও বন্ধ। সহিদ হোসেন কাছুয়া বলেন, ‘তিনমাসের মধ্যে পুরো ৩০ দিনই এক বেলা খেয়ে কাটাতে হয়েছে।

দিনে খাবার যোগাতে পারলে, রাতের বেলা যোগাতে পারি না। কামাই না থাকায় কোদালকাটি বাজারের মঞ্জিলের দোকানে চাল ডালের বাকি পড়েছে ৯ হাজার টেহা। এহন আর সে বাহি দেন না। কোনো উপায় না পেয়ে আরেক দোকান ফুল মিয়ার কাছে বাকি পড়েছে আড়াই হাজার টাকার বেশি। কাচা তরকারির সবুরের দোকানে বাকি হয়েছে দেড় হাজার টাকার মতো। ওদিকে আশা এনজিও থেকে ৪৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ঘোড়াটা কিনছি। আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় তাগরে কিস্তির টেহাও দিবার পারি না।

কিস্তির টেহার জন্য কর্মীরা বাড়ি পারাইয়া ভাঙ্গছে। আশার কমীকে কইয়া দিছি টেহার জন্য চাপ দিলে বিষ খাইয়া মরন ছাড়া কোনো উপায় থাকব না আমার। কোদালকাটি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডভুক্ত এলাকা পাইকানটারি পাড়া গ্রাম। এ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইব্রাহিম। সাহায্য সহযোগিতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার ভাগে যে ত্রাণ পৌঁছে তার চেয়ে অনেক বেশি অভাবি দুঃস্থ মানুষ। ফলে ওই পরিবারটির ভাগ্যে সরকারি ত্রাণ পৌঁছেনি। তবে ওই পরিবারের গৃহবধু সাবিনা খাতুন বলেন, ভোট না দেয়ার কারনে আমগর মেম্বার কোনো ত্রাণ দেয় না। ত্রাণের জন্য গেলে মেম্বার কয় তোমরা তো আমাকে ভোট দেওনি।

গত বছর বন্যায় ৭কেজি ও ঈদে ৮ কেজি চাল সাহায্য দিয়েছিলেন ছক্কু চেয়ারম্যান নিজে। এরপর হারা বছরেও আমরা সরকারি কোনো ত্রাণ পাই নাই। মাঝে মধ্যে স্থানীয় স্কুল শিক্ষক আমিনুর রহমান কিছু সহযোগিতা করে থাকেন ওই পরিবারসহ অনেক দুস্থ্যদের। এ বিষয়ে তিনি জানান, পরিবারটি খুবই গরীব ও অসহায়। ঘোড়ার গাড়ির ওপর তাদের সংসার চলে। আমি অনেক সময়ে দেখি মাল বোঝাই গাড়ি ঠেলছে ছোট মাছুম বাচচারা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তা বন্ধ থাকায় বিপদে পড়েছে পরিবারটি।

সরকার অভাবি দুঃস্থদের জন্য ভিজিডি সুবিধা ছাড়াও ১০ টাকার চাল দিচ্ছে। বন্যার সময়ে ত্রাণ সামগ্রী দিচ্ছে। দুই ঈদে সহায়তা দিয়ে থাকে সরকার। এত সাহায্য সহযোগিতা যায় কোথায়? কোদালকাটি ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ছক্কু বলেন, ২০১৯ এর বন্যায় আমি নিজেই ওই পরিবারকে সহায়তা দিয়েছি। ওই ওয়ার্ড মেম্বারকেও বলা হয়েছে সরকারি সহায়তা দেয়ার জন্য। কিন্তু মেম্বার যে পরিবারটিকে বঞ্চিত করেছে এ বিষয়টা আমার জানা ছিল না। এরপর ওই পরিবারকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সাহায্য সহযোগিতা দেয়া হবে।