করোনার অস্তিত্ব সম্পর্কে প্রথম টের পাওয়া সতর্ককারী সেই চিকিৎসক আর নেই

করোনাভাইরাস সম্পর্কে প্রথম যে চিকিৎসক সর্বপ্রথম সতর্ক করেছিলেন তিনি মারা গেছেন। সবার আগে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির অস্তিত্ব টের পেয়েছিলেন ও ভয়াবহতা বুঝতে পেরেছিলেন চিকিৎসক লি ওয়েনলিয়াং। বৃহস্পতিবার ভাইরাসের কেন্দ্রস্থল চীনের উহানে ২৭ বছর বয়সী ওই চিকিৎসক মারা যান।

এটি অনেকটা সার্সের মতো বলেও উল্লেখ্য করেন তিনি। এক গ্রুপ তিনি ব্যাখ্যা করে নিজের বন্ধুদের সতর্ক করে বলেন যে, তার গবেষণা অনুযায়ী এটি আসলে করোনাভাইরাস। এজন্য বন্ধুদের সবাইকে সতর্ক থাকতেও বলেন তিনি। এগুলো সবই ছিল অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা। সেই মুহূর্তে এ রোগটি সম্পর্কে তথ্য ছড়াতে চায়নি কর্তৃপক্ষ। কিন্তু দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে করোনাভাইরাস। রুপ নেয় আধুনিক বিশ্বের নতুন মহামারীতে।

ভয়ংকর এ পরিস্থিতির মাত্র এক মাস আগেই ভাইরাসটির মহামারী নিয়ে কর্তৃপক্ষকে বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন লি ওয়েনলিয়াং। সেই হুঁশিয়ারি তখন পাত্তাই দেয়নি সরকার। উল্টো তার কথা গুজব বলে শাসাতে থাকে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ভয় দেখিয়ে মুখবন্ধ করে দেয় উহান পুলিশ। সেই ডাক্তারকেই এখন ‘হিরো’র আসনে বসাচ্ছে পুরো চীন।

গত ১২ জানুয়ারি থেকে লি ওয়েনলিয়াং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তার শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ে গত ১ ফেব্রুয়ারি। রোগীর দেহ থেকে লির শরীরে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে বলে জানা যায়।
উইচ্যাটে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর তার মেডিকেল স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের গ্রুপে ডা. লি জানিয়েছিলেন যে, স্থানীয় একটি সামুদ্রিক খাবার বিক্রির বাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতজন একটি বিশেষ ধরনের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়েছেন তিনি।

এদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের মহামারীতে নাজুক পরিস্থিতি চীনের। একদিকে শত শত মানুষের মৃত্যু, আরেকদিকে বিশ্বে আর্থ-সামাজিকভাবে প্রায় একঘরে হয়ে পড়েছে দেশটি।