করোনাভাইরাস সঙ্কট: চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের বৈঠক

মোঃ রাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ চট্টগ্রামের মন্ত্রী, সাংসদ ও দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের এক সভায় করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্য সেবার ব্যবস্থাপনা ও লকডাউন পরিস্থিতিতে নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের উদ্যোগে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারি ছুটি শুরুর পর থেকে কোয়ারেন্টিনে থাকা বর্ষীয়ান নেতা মোশাররফ হোসেনের উদ্যোগে সভায় চট্টগ্রামের সরকার দলীয় অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা এই প্রথম একত্রিত হলেন।

সভায় মোশাররফ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ত্রাণ নিয়ে কেউ যাতে কোনো অনিয়ম করতে না পারে, এটা কোনোভাবে বরদাশ করা হবে না। মানুষ যাতে কষ্টে না থাকে, অভুক্ত না থাকে এটা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।”

সভা আয়োজনের বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বলেন, “সবাই প্রাণবন্ত আলোচনা করেছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও ছিলেন।

সভায় ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ লকডাউন পরিস্থিতি পরীক্ষামূলকভাবে ক্ষেত্র বিশেষে সীমিত আকারে শিথিল করে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ধীরে ধীরে সচল করা যায় কি না, সেটা বিবেচনার পক্ষে বলেন।

এ বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেন, “পরিস্থিতি বিবেচনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। আলোচনায় আমি ব্যক্তিগত মত দিয়েছি। অনেকদিন ধরে লকডাউন অবস্থা চলছে। ক্ষেত্র বিশেষে কোথাও কোথাও সীমিতভাবে ট্রায়াল বেসিসে লকড ডাউন শিথীল করে দেখা যেতে পারে।”

এখন দেশের সাধারণ মানুষ কী অবস্থায় আছে সেই প্রকৃত চিত্র তুলে আনতে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ভূমিমন্ত্রী।

সভায় শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনগণের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছেন। কেউ যেন সরকারি ত্রাণ নিজের নামে বিতরণ না করেন।”

পাশাপাশি দলীয় পদে থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করায় চট্টগ্রামের এক চিকিৎসক নেতার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নওফেল।

সভায় নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় কিছু সংকট আছে। এখানে আইসিইউ সংকট আছে। এতদিন এজন্য বেসরকারি হাসপাতাল নির্ধারণ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেসব হাসপাতালে গেলে রোগীরা চিকিৎসা পায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অথচ এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সঠিক তথ্য যায়নি।

সভায় সাংসদদের মধ্যে মোছলেম উদ্দিন আহমদ, নজরুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, ফজলে করিম চৌধুরী ও এম এ লতিফ, সিটি নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী, নগর কমিটির সহ-সভাপতি জহিরুল আলম দোভাষ ডলফিন, ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুল ও আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম, সাধারণ সম্পাদক শেখ আতাউর রহমান, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন ও সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি উপস্থিত ছিলেন।

তবে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি সভায় যাননি।