করোনাকালে মানবিক নেত্রকোণা জেলা পুলিশ

জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ করোনাকালে আইন প্রয়োগে কঠোর ভাবনার গায়ে মানবিকতার পরশ বুলিয়ে দিয়েছে নেত্রকোণা পুলিশ বাহিনী। সংক্রমণরোধে লকডাউন ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষদের খাদ্যসাহায্যেও হাত বাড়িয়েছে তারা।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে বাড়ি থেকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া, জনসচেতনতা বাড়ানো, মারা যাওয়া ব্যক্তিদের দাফন বা সৎ​কার, হাওরাঞ্চলের কৃষকের ধান কেটে দেয়া, অভাবী মানুষের জন্য সরকারি ত্রাণ যাতে চুরি না হয় ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে পুলিশ। সব মিলিয়ে করোনার এই দুর্যোগে পুলিশের এক নতুন মানবিক ভাবমূর্তি গড়ে উঠেছে।

নেত্রকোণা জেলা পুলিশ করোনাকালে একের পর এক মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে। নিজেদের বেতন ও রেশন থেকে জেলার সকল উপজেলায় অসহায়, দুঃস্থ্য অন্তত হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে নেত্রকোণা পুলিশ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, মদন উপজেলায় তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়ের ১২০ সদস্য এবং কলমাকান্দা উপজেলায় বেদে পল্লীতে ত্রাণ বিতরণ। ঢাকা-নারায়নগঞ্জ থেকে ফেরত আসা খালিয়াজুরীর ১৭টি পরিবারের নারী ও শিশুসহ ৫৯ জন সদস্য এলাকাবাসীর চাপে নির্জন হাওরের ঝুপড়ি ঘরে কোয়ারেন্টিনে থেকে যখন অসুস্থ্য হতে থাকে তখন পুলিশ তাৎক্ষণিক তাদের উদ্ধার করে খাদ্যসামগ্রী দিয়ে নিজ নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টিনে থাকার ব্যবস্থা করেন। এর মধ্যে আবার নেত্রকোণায় হানা দিয়েছে তিন দফা বন্যা। নেত্রকোণা পুলিশ বাহিনী বন্যা দুর্গতদের জন্যেও বাড়িয়ে দিছে মানবিকতার হাত, বিতরণ করছে ত্রাণ সামগ্রী।

এছাড়াও লকডাউন এলাকায় পাহারা বসানো, কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তিদের নজরদারি করা, গণপরিবহনে সামাজিক ও শারিরিক দুরত্ব বজায় রাখা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ইত্যাদিসহ বিভিন্ন মানবিক কাজের উজ্জল সাক্ষ্য রেখে চলেছে জেলা পুলিশ। অপরদিকে এই করোনাকালে জেলা পুলিশের কাছে চ্যালেঞ্জ হচেছ সদ্য কর্মহীন হয়ে পরা মানুষকে অপরাধ প্রবণতা থেকে মুক্ত রাখা। মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি থেকে জেলাবাসীকে রক্ষা করা। এরই অংশ হিসেবে জেলা পুলিশ অপরাধ নির্মুলে সবোর্চ্চ সজাগ ভুমিকা রেখে চলেছে। যার জন্যে বাড়াতে হয়েছে পুলিশের নিত্যদিনের কর্মকান্ড। জেলাবাসীকে করোনা সংক্রমনের বাহিরে রাখতে গিয়ে আজ পর্যন্ত নেত্রকোণা পুলিশ বাহিনীর ৪৪ জন সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। সঠিক পরিচর্যায় তাদের মধ্যে সুস্থ্য হয়েছেন ৩৬ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন। মারা যাননি কেউ।

নেত্রকোণা পুলিশ সুপার আকবর আলী মুন্সী বলেন, লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে যেসকল মানুষকে অসহায় বলে মনে হয়েছে তাদেরকেই আমরা খাদ্য সহায়তা দেয়ার চেষ্ঠা করেছি। জেলার আইনশৃংখলা রক্ষার পাশাপাশি মানবতাবোধ থেকে জনসাধারণের জন্যে কিছু করার প্রয়াস রয়েছে পুরো পুলিশ বাহিনীরই। ইতিমধ্যে শুধু নেত্রকোণা নয়, সারাদেশেই মানবিক কার্যাবলীর জন্যে পুলিশ বাহিনী সুনাম কুড়িয়েছে। জনকল্যাণে জেলা পুলিশ সবসময় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই করোনাকালে জেলার আইনশৃংখলা রক্ষা করাসহ সকল প্রকার মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।