করুণ অবস্থা হোম টিউটর আর কিন্ডার গার্টেনের শিক্ষকদের, প্রণোদনা বঞ্চিত তারা

জহিরুল ইসলাম সাগর, আখাউড়া প্রতিনিধিঃ টিউশনি করে সংসারের হাল ধরা কিংবা নিজের খরচ চালানোর চেষ্টা করা শিক্ষিত বেকারদের জীবন বিপর্যয় প্রায়। ভয়াবহ করোনার করুণ পরিস্থিতিতে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় এবং নিজেদের ও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা ভেবে টিউশনিগুলো বন্ধ রেখেছে তারা।

গত তিন মাস ধরেই তাদের আর কোনো উপার্জন নেই। সরকারী প্রণোদনা ও কোনোভাবে পৌঁছালো না তাদের কাছে। আগামী ৬ আগষ্ট পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণায় তাদের ডিপ্রেশন আরো ভেড়ে গেলো। টিউটর রানা জানায়, বেশিরভাগ টিউটর কিন্ডার গার্টেন পার্ট টাইম শিক্ষকতা করার পাশাপাশি টিউশনির সাথে যুক্ত। নিজের খরচ চালানোর পাশাপাশি পরিবারও অনেকাংশ আমাদের উপর নির্ভরশীল।

বর্তমান পরিস্থিতিকে আর সামলানো যাচ্ছেনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, এক সময় আমি কিন্ডার গার্টেন শিক্ষকতা করেছি এবং টিউশনি করেছি। আমার উপর ডিফেন্স ছিল পুরো পরিবার। এখন আমি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, বেশ ভালো আছি। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে টিউটর এবং কিন্ডার  শিক্ষকতা করাদের অবস্থা কতটুকু খারাপ তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এক কিন্ডার গার্টেনের মালিক জানান, প্রতিমাসের বেতন থেকেই বিদ্যালয়ের ভাড়া, শিক্ষকদের সম্মানী পরিশোধ করা হতো। মার্চ মাস থেকে এ যাবৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ এবং কোনো প্রক্রিয়া না থাকায় বেতন আদায় হচ্ছে না। যার ফলে নিজের সংসার খরচ এবং বিদ্যালয়ের ভবনের ভাড়া পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে শিক্ষকদের সম্মানী পরিশোধ।

আখাউড়া উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এবং মেধা বিকাশ প্রি-ক্যাডেট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম সাগর জানান, আপদকালীন ফান্ড থেকে এ পর্যন্ত পরিশোধ করেছি। বন্ধ ভেড়েছে সামনে আমার অবস্থা সূচনীয়। তবে যেসব মালিকপক্ষ শিক্ষকদের সম্মানী দেয়নি তাদের উচিৎ ছিল কম বেশি পরিশোধ করে শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো। টিউটর এবং কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকদের প্রণোদনার ব্যবস্থা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ স্থানীয় প্রশাসন এগিয়ে আসা কামনা করি।