কমলাপুর স্টেশন অক্ষত রেখেই মেট্রোরেলের পরিকল্পনা

কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে পর্যাপ্ত দূরত্বে মেট্রোরেলের স্টেশন নির্মিত হবে। সেক্ষেত্রে- মেট্রোরেলের জন্য কমলাপুর রেলস্টেশন ভাঙার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

স্থপতি মোবাশ্বের হোসেনও মনে করেন-কমলাপুর রেলস্টেশনকে অক্ষত রেখে সবকিছুই বিকল্প পরিকল্পনার মাধ্যমে করা সম্ভব। আশ্বস্ত করেছেন রেলমন্ত্রীও। জানান-কমলাপুর রেলস্টেশনকে রেখেই সব উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।

দেশের প্রথম মেট্রোরেল উত্তরা থেকে মতিঝিল হয়ে শেষমেষ যাবে কমলাপুর। মেট্রোরেল-১, রাজধানীর এয়ারপোর্ট থেকে শুরু হয়ে দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেলের গন্তব্যও কমলাপুর।

রাজধানীর আরেক মেগাপ্রকল্প এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। যে উড়াল সড়ক এয়ারপোর্ট থেকে শুরু হয়ে বনানী, মগবাজার , কমলাপুর হয়ে যাবে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত।

এসব মেগাপ্রকল্পকে ঘিরে কমলাপুরকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবছে সরকার। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে মাল্টিমোডাল হাব নির্মিত হবে কমলাপুরে। যে কারণে খবরের অন্যতম শিরোনাম, ভাঙা পড়ছে কমলাপুর রেলস্টেশন।

কিন্তু-মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ বলছে-তাদের জন্য ভাঙার প্রয়োজন পড়বে না কমলাপুর রেলস্টেশন। স্টেশন থেকে কমপক্ষে ৩০ মিটার দূরে হচ্ছে মেট্রোরেলের স্টেশন।

মেট্রোরেলের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক আব্দুল বাকী মিয়া বলছেন, আমাদের জন্য ভাঙার প্রয়োজন নেই কমলাপুর রেলস্টেশন। কারণ কমলাপুর স্টেশন থেকে মেট্রোরেল স্টেশনের দূরত্ব ৩০ মিটার।

এ বিষয় নিয়ে এরইমধ্যে বাংলাদেশ স্থপতি ইনিস্টিটিউটের পক্ষ থেকে দেশের খ্যাতনামা স্থপতিগণ সাক্ষাৎ করেছেন রেলমন্ত্রীর সঙ্গে। স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মোবাশ্বের হোসেন বলছেন- কমলাপুর স্টেশন না ভেঙেই বিকল্প পরিকল্পনা অনুযায়ী অন্যসব বহুতল স্থাপনা নির্মাণ সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, জাপানী কোম্পানি তারা যা যা করতে চাচ্ছেন সব কিছুই কমলাপুর রেলস্টেশন অক্ষত রেখেই করা সম্ভব। তাই অযথাই প্রাচীন এই স্থাপনা ভাঙার কোন মানেই হয় না।

রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলছেন – বিভিন্ন মেগাপ্রকল্পের কারণে ভবিষ্যতে কমলাপুরকে উন্নত বিশ্বের আদলে গড়ে তোলা হবে। সেজন্য-শাহজাহানপুর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ভবন-স্থাপনা পুনঃরায় নির্মাণ করা হবে।

তবে তিনি দাবি করেন কমলাপুর রেলস্টেশন ভাঙার তথ্যটি ভুল। আমরা চাচ্ছি এই স্টেশনটিকে অক্ষত রেখেই উন্নত বিশ্বের মতো করে সব স্থাপনাগুলো নতুন করে সাজাতে চাই।

কমলাপুর রেলস্টেশন এবং শাহজাহানপুর রেলওয়ে আবাসিক এলাকা ঘিরে বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে রেলপথ মন্ত্রণালয়, তাকে বলা হচ্ছে ‘মাল্টিমোডাল হাব’। জাপানের কাজিমা করপোরেশনের পরামর্শ অনুযায়ী তা বাস্তবায়নে এগিয়ে চলছে প্রকল্প।