কমলনগর নদী ভাঙ্গনে স্থায়ী মেঘনা বাঁধের দাবীতে ইসলামী আন্দোলনের মানববন্ধন

নুরুল আমিন দুলাল ভূঁইয়া, লক্ষ্মীপুর জেলা প্রতিনিধি : লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বুধবার সকাল ৮ টা মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন রোধে উপজেলার নাছিরগঞ্জ বাজারে দ্বিতীয় দফায় জঙ্গলাবাঁধ নির্মাণের দাবিতে প্রায় তিন শতাধিক নেতা কর্মী নিয়ে উপস্থিত হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কমলনগর উপজেলা নেতৃবৃন্দ।

এসময় সকাল ৮ টা থেকে তিন শতাধিক নেতা কর্মী স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে জঙ্গলাবাঁধ নির্মাণের কাজ করেন দুপুর ১২ টা পর্যন্ত। বাঁধ নির্মাণ কাজ শেষে সংগঠনটি তাদের নেতা কর্মী এবং স্থানীয় জনগণকে নিয়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে একটি মানববন্ধন করেন। এ বিষয়ে উক্ত জঙ্গলাবাঁধ নির্মাণ ও মানববন্ধনের নেতৃত্ব দেন,

লক্ষীপুর-৪ (রামগতি- কমলনগর) আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বী ও ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মুফতি শরিফুল ইসলাম।উক্ত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার জয়েন্ট সেক্রেটারি মাওলানা আ হ ম নোমান সিরাজি।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, মেঘনার অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলিন হয়ে যাচ্ছে কমলনগর উপজেলা।দেখার মত কি কেউ নেই? কমলনগর বাসী কি অভিভাবক হারা? তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে রামগতি কমলনগরে বহু রথীমহারথী এসেছেন। কেউ এম পি,কেউ মন্ত্রী আবার কেউ সচিব সহ বিভিন্ন সেক্টরে উচ্চ পর্যায়ে পৌছেছেন।যে মাটিতে আপনারা জন্মগ্রহন করেছেন,সে ভিটে মাটি আজকে নদীর গর্বে বিলিন হয়ে যাচ্ছে কিন্তু আপনারা কি উদ্যোগ নিয়েছেন।

ঐ মাটির জন্য আপনারা কি করেছেন, তা জাতী জানতে চায়। আমরা দেখেছি, নির্বাচন আসলেই আপনারা এই নদী নিয়েই রাজনীতি শুরু করেন। আর কত রাজনীতি করবেন? রাজনীতি করতে করতে কমলনগরের সিংহভাগ আজ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। অচিরেই দেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাবে আমাদের এই প্রিয় জন্মস্হান কমলনগর উপজেলা।

এখনই কোন ব্যবস্থা না নিলে আগামী নির্বাচনে এই নদী নিয়ে যেই রাজনীতি করতে আসবে বা ভোট ভিক্ষা চাইতে আসবে তাদের কে উচিত জবাব দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। এক সময়ে জাতীয় নেতা আ স ম আব্দুররব সাহেব পরবর্তীতে সিএসপি আব্দুর রব চৌধুরী, এবিএম আশ্রাফ উদ্দীন নিজান,আব্দুল্লাহ আল মামুন এখন আবার মেজর মান্নান সাহেব।

আপনারা সবাই নদীভাঙ্গন রোধ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েই, রামগতি-কমলনগরবাসীর কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন। জনগন আপনাদের কে বিশ্বাস করে ভোট ভিক্ষা দিয়েছিলো। কিন্তু আপনারা এই নদী ভাঙ্গা অবহেলিত নির্যাতিত নিপিড়ীত মানুষের সাথে বার বার প্রতারণা করেছেন। কোন নেতাই এই নদী ভাঙ্গনের ব্যাপারে স্থায়ী কোন পদক্ষেপ নেননি, আপনারা ব্যর্থ।

তবে সাবেক এমপি জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুন সাহেব তার আমলে নদী নিয়ে কিছুটা চেষ্টা করে রামগতিতে সাড়ে তিন কিঃমিঃ এলাকার কাজ করলেও কমলনগরের জন্য তিনি কিছুই করেনি। এমন কি অপরাধ করলো কমলনগরবাসী মামুন সাহেবের সাথে তা আমরা জানতে চাই। তবুও তাকে ধন্যবাদ। কিন্তু অন্যদের ভুমিকা নিয়ে আমরা খুবই মর্মাহত। আমরা প্রথমে শুনলাম রামগতি-কমলনগরে নদী বাঁধের জন্য ১৩ শ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

পরে দেখলাম ১শ ৯৮ কোটি টাকায় সাড়ে তিন কিঃমিঃ বাঁধের কাজ হলো।এখন শুনি ১৩ শ কোটি টাকার প্রকল্প না কি বাতিল হলো,কি কারনে কেন আমাদের এই প্রকল্প বাতিল হলো তা আমরা জানতে চাই। গত মঙ্গগলবার একনেকের বৈঠকে মেঘনা নদীর বাঁধ নিয়ে কোন প্রকল্প না থাকায় আমরা বুঝে নিলাম বর্তমানে রামগতি কমলনগরের কোন অভিভাবকই নেই।

কোথায় আমাদের এমপি সাহেব? আপনি কি নদীর ভাঙ্গনের কথা ভুলে গেছেন? রাক্ষুসে মেঘনার ভয়াল থাবায় হতভাগা এ জনগন বার বার প্রতারিত হয়েছে।আর আমাদের তথাকথিত অভিভাবকরা রাজধানীতে কেউ বা বিদেশে গিয়ে এসিরুমে বসে আছেন।নির্বাচনের সময় ভোট ভিক্ষা চাইতে আসলে হতভাগা এই জনগন আপনাদের কে উচিৎ জবাব দিবে ইনশাআল্লাহ।

আমরা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহতারাম আমীর, এদেশের শান্তিকামি-মুক্তিকামী স্বাধীনতাকামী গণমানুষের প্রানপ্রিয় নেতা, পীর সাহেব চরমোনাই এর পক্ষ থেকে, রামগতি কমলনগরের বর্তমান ও সাবেক সকল নেতৃবৃন্দকে অনুরোধ করবো, এখনো সময় আছে জনগনের কাতারে এসে এই নদী ভাঙ্গন নিয়ে কিছু একটা করুন।

প্রয়োজনে সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ গড়ে তুলে হরতাল অবরোধের মত কর্মসূচি দিয়ে সারা দেশ থেকে লক্ষ্মীপুর রামগতি কমলনগর কে বিচ্ছিন্ন করে দিতে হবে। পরিশেষে বক্তাগন প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রীর কাছে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আাবেদন করেন।এসময় আারোো বক্তব্য রাখেন মুফতি শরিফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, ইসলামী যুব আন্দোলন(কুমিল্লা সাংগঠনিক বিভাগ।

মাওলানা শরিফুল ইসলাম, মাওলানা শরিফুল ইসলাম, সভাপতি, আই এ বি, কমলনগর উপজেলা।মোঃ মোফাসসেল খান,প্রশিক্ষণ সম্পাদক, ইশা ছাত্র আন্দোলন, লক্ষ্মীপুর জেলা। ইসমাইল হোসেন রাসেল, সাবেক ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক,ইশা ছাত্র আন্দোলন, লক্ষ্মীপুর জেলা। মোঃ মোসলেহ উদ্দিন, আইবি সেক্রেটারি। হাজী নুর মোহাম্মদ, সদর,বামুক।মওলানা নাজিরুল ইসলাম, সভাপতি, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন ।মুহাম্মদ রিয়াজ,সেক্রেটারি, যুব আন্দোলন সহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।