কক্সবাজার মহেশখালীতে লন্ডভন্ড বেড়ীবাঁধ মেরামতে হরি লুট

স.ম ইকবাল বাহার চৌধুরী, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ  কক্সবাজার জেলার মহেশখালীর মাতার বাড়ীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিধ্বস্ত বেড়ীবাঁধের কারণে বর্ষার শুরুতেই ঝুঁকির সম্মুখীন উপ-দ্বীপের বিস্তীর্ণ জনপদ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পাউবো’র ৭০ নম্বর পোল্ডারের মাতারবাড়ী সাইট পাড়ার বেড়ীবাঁধে বিগত পাঁচ/ছয় বছর থেকে বড় ধরনের ভাঙনের সৃষ্টি হলেও টেকসই ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে মাঝে মধ্যে জরুরি মেরামতের নামে নাম মাত্র কাজ করে সরকারি অর্থের লুটপাট হয়েছে বেশ কয়েকবার এমনই তথ্য দেন সচেতন মহল।

সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় ফণির প্রভাবে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে আবারো নতুনভাবে ভাঙনের পরিধি বাড়লে কিছু দিন পূর্বে শুরু হয় জিও টিউব দিয়ে মেরামত কাজ। প্রতিবারই মেরামত কাজে বেড়ী বাঁধের কাছ থেকে মেশিন বসিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে মেরামত কাজের সাথে সাথে অনেকটা ধ্বসে পড়ে জিও টিউব। ফলে বর্ষার স্বাভাবিক জোয়ারেও লোকালয়ে প্রবেশ করে লোনা পানি।

ক্ষয়ক্ষতি মুখে পড়ে জনবসতি ও ফসলের মাঠ। সম্প্রতি ঘুর্নীঝড় আম্ফানের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে নতুনভাবে  ভেঙেছে বেড়ীবাঁধ। এতে বেশ কয়েকবার জোয়ারের পানি প্রবেশে ঝুকিতে রয়েছে বেড়ীবাঁধেে আশ্রয় নেওয়া পরিবারসহ সমতলে বসবাসরত কয়েক হাজার পরিবার। আগামীতে পূর্ণীমার জোয়ারে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির আশংকায় মাতারবাড়ীবাসি।

প্রতিবারই টেকসই বেড়ীবাঁধ দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠলেও মানসম্মত স্থায়ী বেড়ীবাঁধ দাবি উপেক্ষিত। বর্তমানে ছয়শত মিটার বেড়ীবাঁধ মেরামতে ষাট লক্ষ টাকা সহ ইতিপূর্বে প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিবারই শুষ্কমৌসুমে মেরামত কাজ না হওয়ায় অনেকের ধারনা প্রতিবারের ন্যায় বর্ষার শুরুতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়ীবাঁধ মেরামতের নামে সরকারি অর্থ নয় ছয় করার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন।

জেলা উপজেলা পর্যায়ের অনেক নেতা থাকা সত্বেও দীর্ঘ দিন থেকে মাতার বাড়ির পশ্চিমের বেড়ীবাঁধের টেকসই কাজ না হওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। বিধস্ত বেড়ীবাঁধ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী ‘পাউবো’ প্রবীর কুমার গোস্বামী জানান- বিধস্ত ছয়শত মিটার বেড়ীবাঁধ জরুরী মেরামতের জন্য আয়েশা ট্রেডিং এর মাধ্যমে ষাট লক্ষ টাকা ব্যয়ে জিও টিউব দিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

বরাদ্দ না থাকায় স্থায়ী টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণ কাজ করা সম্ভব হচ্ছেনা। আগামীতে টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে স্থানীয়রা জানান ভিন্ন কথা,দীর্ঘ পাঁচটি বছর থেকে টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে আসলেও এখনো মানসম্মত মেরামত কাজও হয়নি।

দেশের সব চাইতে বড় প্রকল্পের জন্য মাতারবাড়িবাসী সর্বস্ব দিয়ে উদারতার পরিচয় দিলেও বরাবরই সড়ক যোগাযোগ ও টেকসই বেড়ীবাঁধের দাবি উপেক্ষিত মাতারবাড়ী বাসির । প্রতি বর্ষায় মেরামত হলেও পূর্ণীমার জোয়ারে প্রবল ঢেউয়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় বেড়ীবাঁধ। মেরামতের নামে প্রতিবারই অপচয় হচ্ছে সরকারি টাকা।

বর্ষায় আতংকে দিন কাটে মাতারবাড়ির পশ্চিমে বসবাসরত দরিদ্র জনগোষ্ঠির। তাই স্থানীয় চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্লাহ মানসম্মত জরুরি মেরামতসহ টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণে কতৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।