কক্সবাজারের পেকুয়ায় করোনার সুযোগে রাতে বেড়িবাঁধ কেটে অবৈধ স্লুইচগেইট নির্মাণ

স.ম ইকবাল বাহার চৌধুরী, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ স্থানীয়দের বাধার মুখে একাধিকবার ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত রাতে অন্ধকারে বেড়িবাঁধ কেটে স্লুইচগেট বসালেন কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম। করোনার সুযোগে শনিবার ৬ জুন গভীর রাতে উজানটিয়ার ২০ হাজার মানুষকে আগলে রাখা গুরুত্বপূর্ণ পাউবোর ৬৪/২বি পোল্ডারের বাঁধ কেটে স্লুইচগেট টি বসানো হয়। এর আগে স্লুইচগেট বসানো নিয়ে চেয়ারম্যান এবং স্থানীয়রা মুখেমুখি অবস্থান নিলে শুক্রবার ৫ জুন বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এরই প্রেক্ষিত কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেনের নির্দেশে ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন পেকুয়ার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সাইকা সাহাদাত। রোববার ৮ জুন দুপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পেকুয়া শাখার কর্মকর্তা (এসও) মো. গিয়াস উদ্দীন সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল যান ইউএনও সাঈকা শাহাদাত। এ সময় তিনি বিষয়টি আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে স্থানীয়দের শান্ত থাকার অনুরোধ জানান। এ দিকে রাতে অন্ধকারে অনুমোদনহীন বেড়িবাঁধ কেটে স্লুইচগেট বসানোর অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ জড়িত প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পেকুয়া শাখার কর্মকর্তা (এসও) মো. গিয়াস উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা বরাবর লিখিত অভিযোগটি দায়ের করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এ কর্মকতা জানান, একাধিকবার চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করার পরও তা উপেক্ষা করে রাতের অন্ধকারে বেড়িবাঁধ কেটে স্লুইচগেট বসানো হয়েছে। গত বছরও পাউবোর ৬৪/২বি পোল্ডারের বাঁধ নির্মাণকালীন একই কাজ করেছিল মহলটি। এতে করে বর্ষায় বেড়িবাঁধ সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়ে এলাকাটি ডুবে যায়। ফলে নতুন করে আবারও বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হয়েছিল। পরে বেড়িবাঁধ রক্ষার্থে তৎকালীন ইউএনও মাহবুবুল করিম স্লুইচগেট অপসারণ করেন। উজানটিয়ার পাউবোর ৬৪/২বি পোল্ডারের বাঁধ নির্মাণকারী ঠিকাদার মোঃ সয়লাব এর অভিযোগ, সরকার কোটি টাকা খরচ করে জনগণের স্বার্থে বেড়িবাঁধ টি নির্মাণ করেছে। গত দুইমাস আগে কাজ শেষ হলেও এখনো ফাইনাল বিলও পাননি তিনি।

স্লুইচগেট ফের বসানোর ফলে আবারও বেড়িবাঁধটি ভেঙে গিয়ে উজানটিয়ার মানুষ পানিবন্দি হবে বলে মন্তব্য করেন বাঁধ নির্মাণকারী ঠিকাদার মোঃ সয়লাব। স্থানীয়দের দাবি, বেড়িবাঁধের ভাঙার শঙ্কা থাকলেও স্লুইচগেট বসানোতে কোটি কোটি টাকার লাভবান হবেন ওই চক্রটি। প্রভাবশালী চক্রটি উজানটিয়ার চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের নেতৃত্ব সরকারি খাস জায়গা দখল করে শত শত একর জমিতে চিংড়ি ঘের চাষ করার প্রস্তুুতি নিয়েছে তাঁরা। বিষয়টি জানতে চেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে এর আগে এ প্রতিবেদকের কাছে তিনি বেড়িবাঁধ কেটে স্লুইচগেট নির্মাণের প্রস্তুতির কথা স্বীকার করে বলেছিলেন অনুমতির জন্য পাঠানো হয়েছিল কিন্তু অনুমোদন দেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ড অনুমতি না দিলেও নিজ উদ্যোগে স্লুইচগেট বসাবেন বলে জানিয়েছিলেন শহিদুল ইসলাম। এদিকে রাতের অন্ধকারে বসানো স্লুইচগেট অপসারণ না করলে গতবছরের মত আবারও আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন আমরা উজানটিয়ানবাসী নামের একটি সংগঠন। এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে পেকুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা সাহাদত লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন ঘটনাস্থল আমি পরির্দশন করেছি, আগামী দুইদিনের মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনটি পেলে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।