এক পশলা বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড লবণ মাঠ

 মোঃরাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ এক পশলা বৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল লবণ মাঠ। তার সাথে কালবৈশাখী ও দমকা হাওয়ায় নুইয়ে পড়েছে বোরো ধানের ক্ষেত। উপজেলার বিভিন্ন লবণ মাঠ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।বাঁশখালীর উপকূলজুড়ে চলমান থাকা লবণ চাষীরা জানান- হঠাৎ ঝড়ো হওয়া ও কালবৈশাখী প্রবাহিত হওয়ার কারনে মুহুর্তের মধ্যে জমিতে থাকা লবণগুলো মাটির সাথে মিশে যায়। তাছাড়া বেশকিছু স্থানে লবণ চাষীরা মজুম করা কালে বৃষ্টি হানা দেওয়ায় তারা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অপরদিকে বাঁশখালীর অধিকাংশ স্থানে বর্তমানে বোরো ধান কাটার মৌসুম প্রায়। হঠাৎ প্রবল বেগে প্রবাহিত হওয়া কালবৈশাখীতে তারাও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান চাষিরা। তবে এ ব্যাপারে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিধান কান্তি দাশ চ্যানেল এস কে বলেন, বাঁশখালীতে চলতি মৌসুমে ৯ হাজার ৮শত ৫০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে।

কালবৈশাখীতে কিছু লবণ মাঠের সমস্যা হয়েছে বলে শুনেছি। এবার বাঁশখালীতে ৬ হাজার ৬ শত ২৮ একর জমিতে লবণ চাষ করা হয়। চলতি মৌসুমে দেশে লবণের মোট চাহিদা রয়েছে ১৮ লক্ষ ৪৯ হাজার মেট্রিক টন। আর লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সাড়ে ১৮ লক্ষ মেট্রিক টন। ঝড় বৃষ্টি না হলে আগামী মে মাস পর্যন্ত এ লবণ উৎপাদন করা সম্ভব হবে চাষীরা জানান। তবে গত ১২ এপ্রিল থেকে বাঁশখালী থেকে সকল ধরনের লবণ পরিবহন বন্ধ রয়েছে লকডাউন ও করোনা ভাইরাসের কারণে।

পশ্চিম গন্ডামারা লবণ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির উপদেষ্টা সভাপতি ব্যবসায়ী আবু আহমদ বলেন, চাষিরা এবং আমাদের লোকজন আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না। হঠাৎ ঝড়ো হাওয়া ও কালবৈশাখী শুরু হওয়ায় মাঠের অধিকাংশ লবণ মাটির সাথে মিশে যায়। আমাদের প্রকল্পের প্রায় ১৫/১৬শত মন হতে পারে বলে তিনি জানান। সাগর উপকূলীয় ছনুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম. হারুনুর রশিদ বলেন, হঠাৎ ঝড় বৃষ্টি শুরু হওয়ায় চাষিরা মাঠে যাওয়ার আগেই বৃষ্টিতে লবণগুলো মাটির সাথে মিশে যায়। তাছাড়া বেশ কাঁচাবাড়ির ঘরের চালাও উড়ে যায় বলে তিনি জানান।