উত্তাল সিলেট জনতার কামরান চত্বর নামকরণ নিয়ে।

এনাম রহমান, সিলেট জেলা প্রতিনিধি: সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মরহুম জনপ্রিয় মেয়র বদরউদ্দীন আহমেদ কামরান মারা যাবার পড়। সিলেটের সর্বমহল থেকে বলা হয় সিলেট সিটি পয়েন্টের নাম পরিবর্তন করে কামরান চত্বর করা হোক।

সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধরী সহ নগরীর রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, সিলেটের বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ একমত পোষণ করেন তথা নগর ভবনের সামনের পয়েন্টকে কামরান চত্বর করা হবে। কিন্তু গতকাল সন্ধ্যারাতে (নগর চত্বর) হিসেবে উদ্বোধন করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। যে চত্বরটি এতোদিন (সিটি পয়েন্ট) এর প্রতিবাদে আজ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অংঙ্গ সংগঠনের শতাধিক নেতা কর্মীরা কুব্ধ হয়ে মিছিল সহকারে এসে গতকাল উদ্বোধন হওয়া নগরীর চত্বর সাইনবোর্ড খুলে (কামরান চত্বর) নামের সাইনবোর্ড লাগিয়েছেন ছাত্রলীগ,

যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। এসময় মহানগর যুবলীগের সভাপতি আলম খান মুক্তির সভাপতিত্বে ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠুর পরিচালনায় এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান, মহানগর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মুশফিক জায়গীরদার, এডভোকেট ফখরুল ইসলাম, যুবলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা এম. রশীদ আহমদ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কামরুল ইসলাম, গোলাম হাছান চৌধুরী সাজন, এম এইচ ইলিয়াসি দিনার,

মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষার, সঞ্জয় চৌধুরী প্রমুখ। কাউন্সিলর আজাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন বদর উদ্দিন কামরান দীর্ঘ ৩৩ বছর এই নগরবাসীর সেবায় নিয়োজিত ছিলেন নগরীর উন্নয়নে তার অবদান কোনো অংশে কম নয়। সিলেটের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সবসময় পাশে থেকেছেন। তার নামে এই চত্বরের নামকরণ সিলেটবাসীর প্রাণের দাবি। আগামীকাল সিটি করপোরেশনের মাসিক সভা আছে। এই সভায় আমরা এই চত্বরের নাম চূড়ান্তভাবে কামরান চত্বর করার প্রস্তাব রাখবো। বক্তব্যকালে ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতারা বলেন, গতকাল সন্ধ্যারাতে চুরিসারে সিটি পয়েন্টটিকে ‘নগর চত্বর’ নামে উদ্বোধন করেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এই পয়েন্টকে ‘কামরান চত্বর’ হিসেবে নামকরণের দাবি ছিলো সিলেটবাসীর।

কিন্তু মেয়র নগরবাসীর সেই প্রাণের দাবিকে গুরুত্ব দেননি। তাই আমরা নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে এ চত্বরের নাম বদলে ‘কামরান চত্বর’ নামের সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিয়েছি। তারা বলেন, আর যদি এর নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয় তবে আমরা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো। উল্লেখ্য, গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সিলেট সিটি করপোরেশনের সৌন্দর্য্যবর্ধণ প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত নগর চত্বর অবকাঠামো উদ্বোধন করেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এসময় উপস্থিত ছিলেন সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান, সসিকিরে প্রধান প্রশাসনকি কর্মকর্তা হানফিুর রহমান, সহকারী প্রকৌশলী শামসুল হক, ইউনাইডেট কমার্সিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) এর সিলেট রিজিওনাল হেড আমিনুল হক, ডিজাইন আর্টিস্টির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজহার উদ্দিন কাওসার, সিইও মো. ইসহাক রাজি শাহনওেয়াজ,

সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফজিুর রহমান মাশরুর প্রমুখ। এই স্থাপনা নির্মাণে অর্থায়ন করেছে ইউনাইডেট কমার্সিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে ডিজাইন আর্টিস্টি। উল্লেখ্য, সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরান গত ১৫ জুন মারা যান। করোনাক্রান্ত হয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। পরদিন সোমবার তার মরদেহ সিলেটে এনে মানিক পীর কবরস্থানে দাফন করা হয়। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নির্বাহী সদস্য পদে আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আর সিলেট সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচনে তিনি মেয়র হয়েছিলেন। পরের দফায়ও একই পদে কারাগার থেকে নির্বাচিত হন কামরান। নিজের জীবনের প্রায় দুই ভাগ সময়ই (৪১ বছর) তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাটিয়েছেন।

১৯৫৩ সালে জন্ম নেয়া বদর উদ্দিন আহমদ কামরান মাত্র ১৯ বছর বয়সে ১৯৭২ সালে তৎকালীন সিলেট পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হন। এরপর কমিশনার থেকে হন পৌরসভার চেয়ারম্যান। পৌর চেয়ারম্যান থেকে দু’বারের সিটি মেয়রও ছিলেন তিনি। সিলেটে ব্যাপক জনপ্রিয় কামরানের মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতি ধরে রাখার বিষয়ে জোরালো দাবি ওঠে বিভিন্ন মহল থেকে। রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও সেই দাবিতে শামিল হন। সবার দাবির সাথে দ্বিমত করেননি বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীও।

কামরানের স্মৃতি ধরে রাখতে ‘কিছু একটা করা হবে’ বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে দল-মত নির্বিশেষ সকলের প্রত্যাশা ছিলো- সিটি পয়েন্টকে উদ্বোধনের সময় ‘কামরান চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা দিবেন মেয়র আরিফ, কিন্তু গতকাল সন্ধ্যারাতে সে আশার গুড়ে যেন বালি ঢেলে দিলেন বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। এ ব্যাপারে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলতে তাঁর ফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।