ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কেয়ারটেকার এমদাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুর জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ কেয়ারটেকার মো. এমদাদুল হকের অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে তিনি সহজ কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র বানিজ্য ও করোনা কালে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত এতিমদের অর্থও আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক আব্দুল রাজ্জাক রনি।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে, শরীয়তপুর ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সাধারণ কেয়ারটেকার মো. এমদাদুল হক জেলা কারাগার মসজিদের ইমাম, দক্ষিণ বালুচরা রিয়াজুল জান্নাত নাসিরউদ্দিন কওমী মাদ্রাসার মোহতামিমসহ ঢাকাস্থ সুমনা হাউজিং প্রকল্পে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। করোনাকালে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে দক্ষিণ বালুচরা রিয়াজুল জান্নাত নাসিরউদ্দিন কওমী মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ হাজার টাকা প্রনোদনা গ্রহন করেন কেয়ারটেকার এমদাদুল হক। এতিমদের সেই প্রনোদনার অর্থ মোহতামিম থাকা অবস্থায় এমদাদুল হক আত্মসাৎ করেন।

এই অপরাধে মাদরাসা কতৃপক্ষ তাকে চাকুরি থেকে অব্যাহতি দিলেও অদ্যবধি টাকা ফেরত পায়নি। অপর অভিযোগ থেকে জানাগেছে, ২০১৯ সালে একই কেয়ারটেকার জয়নাল আবেদীন নামে এক ব্যক্তিকে সহক কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ৯ হাজার ৫০০ টাকা গ্রহন করে। অদ্যবধি সেই সহজ কুরআন শিক্ষা কেন্দ্র পায়নি জয়নাল আবেদীন। একই অভিযোগ করেছেন শরীয়তপুর পৌরসভার আটং ও কাগদি এলাকায় অবস্থিত আরো ১০ মসজিদ কমিটি।

এই বিষয়ে অভিযুক্ত মো. এমদাদুল হক বলেন, আমি একটা ষড়যন্ত্রে শিকার। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাস্টার ট্রেনার মোস্তাকিন বিল্লাহদক্ষিণ বালুচরা রিয়াজুল জান্নাত নাসিরউদ্দিন মওমী মাদ্রাসার উপদেষ্টা। তিনিই আমাকে এই মাদরাসায় পরিচালকের দায়িত্ব পালন করতে বলে এবং এতিমদের টাকা আমাকে রাখতে বলে। এখন বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনছে। আমি এতিমদের টাকা আত্মসাতের কথা চিন্তাও করি না। এই বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক রনি বলেন, এই বিষয়ে একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহন করব।