ইরাকে ইরানপন্থিকে প্রধানমন্ত্রী করায় বিক্ষোভে নেমেছে জনগণ

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী পদে ইরানপন্থি বসরার গভর্নরকে মনোনীত করায় এর বিরোধিতা করে বিক্ষোভে নেমেছেন দেশটির জনগণ। বিভিন্ন জায়গায় সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। এদিকে, দেশটির কিরকিুক প্রদেশের কাছে শক্তিশালী রকেট হামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্তত ৪ জন।

ইরানপন্থি বসরার গভর্নর আসাদ আল এইদানিকে ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর পদে মনোনীত করার বিরোধিতায় বিক্ষোভে উত্তাল রাজধানী বাগদাদসহ কয়েকটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাজপথ। একই সঙ্গে বসরার গভর্নরের পদ থেকে তার পদত্যাগের দাবি তুলে স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধরা।

তারা বলছেন, কি ভাবে একজন বিতর্কিত মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসানোর চেষ্টা চলছে। কোন দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। জনগণের পছন্দের কাউকে দায়িত্বে দেখতে চাই। ২০০৩ সাল থেকে ইরাকের অবস্থা বেহাল। এই দেশের পুনর্গঠন খুবই জরুরি। এ জন্য একজন স্বচ্ছ প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজন।

কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ইরাকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য একজন পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রী ও বসরার গভর্নর আসাদ আল এইদানির নাম প্রস্তাব করে পাঠায় ইরান। ইরাকি পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইরান সমর্থিত ‘বিনা’ জোট, বসরার গভর্নরকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করে। আর এর জেরে পদত্যাগের হুমকি দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ। তার পদত্যাগের সিদ্ধান্তে স্বাগত জানিয়েছেন ইরাকের সাধারণ মানুষও।

ইরাকের সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় জোট কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করলে তার ব্যাপারে আপত্তি জানানোর সুযোগ নেই প্রেসিডেন্টের।পার্লামেন্টে বড় জোট হিসেবেই প্রধানমন্ত্রী পদে বসরার গভর্নরকে মনোনীত করে ইরানপন্থী হিসেবে পরিচিত ‘বিনা’ জোট।

দুর্নীতি দমনসহ নানা দাবিতে গেল পহেলা অক্টোবর থেকে থেকে বিক্ষোভ করে আসছে সাধারণ মানুষ। এতে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এদিকে, উত্তরাঞ্চলীয় ইরাকে রকেট হামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। কিরকুকের কাছে ইরাকি সামরিক কম্পাউন্ডে ৩০টি রকেট হামলা হয়।