ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বয়স্ক-পঙ্গু ভাতার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ

জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণা জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার ১ নং মেন্দিপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার বাবু চন্দন কুমার দে এর বিরুদ্ধে বয়স্ক ও পঙ্গু ভাতার কার্ড দেওয়ার কথা বলে টাকা আদায় করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

শুধু তাই নয়; সুবিধাভোগীদের কাছ থেকে ভাতার কার্ড ছাড়াও সে বিভিন্ন খাতে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

গত ইউপি নির্বাচনের পর থেকে ভাতার কার্ডসহ বিভিন্ন খাতে টাকা উত্তোলন করে আসছেন তিনি। এসব ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার বাবু চন্দন কুমার দে বিরুদ্ধে বলমারপুর গ্রামবাসীর পক্ষে সন্দীপ, বিমল, উপানন্দ্র, সমর, মোজাহিদ এরা সবাই মিলে মেম্বারের এই কার্যকলাপের অতিষ্ঠ হয়ে গত ১৭ মে উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবু চন্দন কুমার দে বলমারপুর গ্রামসহ বিভিন্ন গ্রাম থেকে বয়স্ক ভাতা থেকে শুরু করে সকল সরকারি সুযোগ-সুবিধার দেওয়ার কথা বলে, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাবে টাকা উত্তোলন করে আসছেন। গ্রামের অভিযুক্ত ব্যক্তি সন্দীপ জোয়ারদার (৪২) জানায় টিউবওয়েল দেওয়ার নাম করে তার কাছ থেকে ১৫ শত টাকা নেয়।

বিমল জোয়ারদার (৪০) কাছ থেকে পঙ্গু ভাতার নাম করে ২৫,০০০ টাকা, জ্যেতিষ জোয়ারদার এর কাছ থেকে টিউবওয়েলের নাম করে ৫ হাজার টাকা, উপানন্দ্র চন্দ্র মজুমদার (৬৫) কাছ থেকে বয়স্ক ভাতার কার্ডের নাম করে ২ হাজার টাকা, সমর সরকার (২৬) খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির (ও এম এস) এর কার্ডের নাম করে ৩০০ টাকা, মোজাহিদ মিয়া (৪৫) তার কাছ থেকে কৃষিঋণ ও বয়স্ক ভাতার নাম করে ৯ হাজার টাকা নেন, মনসা রানী (৪২) স্বামী মৃত দিলীপ সরকার তার কাছ থেকে টিউবওয়েলের নাম করে ৪ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এছাড়াও গ্রামের আরও বিভিন্ন অসহায়- দরিদ্র মানুুষদের কাছ থেকে এভাবে দীর্ঘদিন ধরে টাকা উত্তোলন করেে আসছেন।

এ বিষয়ে উপজেলার ১ নং মেন্দিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমার কাছে এরকম কোন অভিযোগ আসেনি আর এ ব্যাপারে আমার কিছু জানা নেই। ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার চন্দন যদি এমন অন্যায় কাজ করে থাকে তাহলে তার যথাযথ শাস্তি হোক।

এটা তদন্ত করতে দেয়া হইছে।এটা তদন্ততের জন্য দেয়া হইছে।তদন্তের কাগজ এখনো আমাদের কাছে আসে নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম আরিফুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি আমি পেয়েছি। বিষয়টি আমার বাড়ি আমার খামারের সমন্ধয়কারী মিঠুন চক্রবর্তীকে তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। তদন্তের কাজ চলছে রিপোর্ট পাওয়ার পর সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য বাবু চন্দন কুমার দে সাথে যোগযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার মুটোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যায়নি।