ইউএনও’র হামলায় আটক জাহাঙ্গীর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক

ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলা ঘটনায় আটক জাহাঙ্গীর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক।

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলায় দু’জনকে আটক করেছে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ দল।  আটক দু’জনের একজন উপজেলার রানীগঞ্জ কষিগারি এলাকার আবুল কালামের ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন। অন্যজন হামলার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ওসমানপুরের আমজাদ হোসেনের ছেলে আসাদুল হক।

আটক জাহাঙ্গীর ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক। ২০১৭ সাল থেকে তিনি উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক দু’জনই মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ী। জাহাঙ্গীরের নামে পৌর মেয়রকে হত্যাচেষ্টা, জমিজমা দখল ও চাঁদাবাজির তিনটি মামলা রয়েছে। এছাড়া জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিককে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও রয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার (৪ঠা সেপ্টেম্বর) ভোরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ একটি দল জাহাঙ্গীরকে নিজ বাসা থেকে আটক করে। আর ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আসাদুলকে হাকিমপুর উপজেলার কালিগঞ্জ এলাকায় বোনের বাসা থেকে আটক করা হয়।

প্রসঙ্গত, বুধবার রাত তিনটার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদের ইউএনও’ সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর দিয়ে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলী শেখের ওপর হামলা চালানো হয়। গুরুতর আহত ওয়াহিদা খানমকে রংপুরের ডক্টরস হাসপাতালে ভর্তি করে আইসিইউতে নেয়া হয়। আর তার বাবাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে, অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় বৃহস্পতিবার (৩রা সেপ্টেম্বর) এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ওয়াহিদা খানমকে ঢাকায় এসে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর, রাতেই তার অস্ত্রোপচার করে মস্তিষ্কে ঢুকে যাওয়া হাড় বের করা হয়।

এ ঘটনায় ওয়াহিদা খানমের ভাই শেখ ফরিদ বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেছেন। হামলার রহস্য উদঘাটনে থানা পুলিশ ছাড়াও র‌্যাব, ডিবি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।