আশুগঞ্জে মুজিববর্ষেই বিদুৎ পাবে চরবাসি

বাবুল সিকদার, আশুগঞ্জ(ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর বুক চিরে জন্ম নেয়া বিচ্ছিন্ন একটি চরের নাম চর সোনারামপুর। আশুগঞ্জ বন্দর থেকে আধা কিলোমিটার দূরে এর অবস্থিাত।এটি আশুগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের।

এই চরে সাড়ে তিন হাজার মানুষের বসবাস। প্রধানত মাছ বিক্রি ও নৌকা চালিয়ে তাদের জীবিকা নির্বাহ করে। নাগরিক সুযোগ-সুবিধাসহ অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হয়ে আসছে এই বাসি।চরটির পূর্ব পাশে অবস্থিত বন্দর ও শিল্প নগরী আশুগঞ্জ। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে দু-এক কিলোমিটার জোড়ে মেঘনার উভয়পাড়ে জ্বলে ওঠে হাজার হাজার বাতি। অথচ যুগের পর যুগ ধরে বৈদ্যুতিক সুবিধাবঞ্চিত রয়েছে আশুগঞ্জের এ চরবাসী।

জানা যায়, প্রায় ১০০ বছর আগে আশুগঞ্জে মেঘনা নদীর বুকে জেগে ওঠা চরসোনারামপুর।পরে সেখানে বসতি গড়ে ওঠে। চরের পশ্চিম তীরে কিশোরগঞ্জ ভৈরব বন্দর। দক্ষিণে মেঘনার ওপর নির্মিত দুটি রেল সেতু ও একটি সড়ক সেতু আশুগঞ্জ বন্দর ও ভৈরব বন্দরকে যুক্ত করেছে। আর উত্তরে চরের বুক চিরে রয়েছে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ২৩০ কেভি বিশাল সঞ্চালন টাওয়ার। নিজ উপজেলায় (আশুগঞ্জ বন্দরের মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে) অবস্থিত দেশের বৃহত্তম বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয় বিদ্যুৎ। চারিদিকে হাজারো বাতির আলোর ঝলকানি থাকলেও তাদের ছোট্ট দ্বীপটিও একদিন বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে এতদিন এমন স্বপ্ন দেখে যাচ্ছিল অবহেলিত বাসীরা।

শতবর্ষ পর মুজিববর্ষের প্রথমদিকেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার চর সোনারামপুরের বাসিন্দারা পেতে যাচ্ছে বিদ্যুতের সুবিধা। এরই ধারাবাহিকতায় চরের চারপাশে বসছে বিদ্যুতের খুঁটি। আর এসব দেখে আনন্দে আত্মহারা চরের বাসিন্দারা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো পৌঁঁছে দেয়ার ঘোষণায় চরবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। ভৌগলিক কারণে চরটিতে বিদ্যুতায়ন কঠিন হলেও মুজিববর্ষেই বিদ্যুতের আলো জ্বলবে চর সোনারামপুরে। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে সেখানে পৌঁছে যাবে ১১ কেভি লাইন। প্রায় এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দেয়া হবে সেখানে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিতরণ বিভাগ) আশুগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.রিয়াজুল হক জানান, কুমিল্লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের আওতায় সাব মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে নদীর নিচে দিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে চরটিতে। ইতোমধ্যে নদীর পাড়ে টাওয়ার স্থাপন করে সাবস্টেশন থেকে তার টানা হচ্ছে। চরে বসানো হচ্ছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। মুজিববর্ষে চরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার টার্গেট নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।