আশুগঞ্জে প্রভাবশালীদের দখলে সরকারি খাল ক্ষতির মুখে কৃষক

বাবুল সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িযার আশুগঞ্জে একের পর এক সরকারি খাল দখল ও ভরাট করে বাড়ি-ঘর,ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করছেন এলাকার কিছু প্রভাবশালীরা। এতে করে পানিচলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন অসংখ্য কৃষক ও এলাকার সাধারণ মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারন মানুষরা জানান,অবৈধ খাল দখলদারদেরকে আইনের আওতায় এনে দখল ও ভরাটকৃত খাল পুনরুদ্ধার করে কৃষকদের ফসলী মাঠ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষা করতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আড়াইসিধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো.সেলিম মিয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সাবেক মেম্বার হাজি মো.হানিফ মিয়া,মফিজ মেম্বার,হাজী আলি আকবর ও আড়াইসিধা ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য শিউলী মোরশেদ বলেন,দখলকৃত সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে উপজেলার আড়াইসিধা ইউনিয়নের চকবাজার কফি হাউজ হতে বাজার চারতলা প্রর্যন্ত ১৩ শ’মিটার রাস্তার দু’পাশে প্রায় ৬০ ফুট’সরকারি খাল কিছু প্রভাবশালী লোকের জোরপূর্বক দখলে সয়লাব। সেখানে তৈরী করেছেন ঘরবাড়ি,ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ফলে এলাকায় জলাবদ্ধতা,চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসি। সামান্য বৃষ্টিতে ফসলের মাঠ,বাড়ি-ঘর-সড়ক পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। প্রতিকার চেয়ে গত কয়েক বছর ধরে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ প্রদানের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেও কোনো প্রতিকার পায়নি। তাই তারা মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পেতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
সরেজমিনে আড়াইসিধা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়,এ এলাকাটি এক সময় খালপ্রধান ছিল। প্রায় দশ বছর যাবত আশুগঞ্জ কৃষি প্রকল্প সেচ না পাওয়ায় সহস্রাধিক ফসলি জমি অনাবাদি রয়েছে। এখন পাল্টে গেছে দৃশ্যপট, চোখে পড়ে ভিন্ন চিত্র। প্রশস্ত খালগুলো শুধু ভরাটই নয়, দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছে একদল প্রভাবশালী। সরকারি সড়ক ও খালের দু’পাশের পাড়গুলো দখল করে চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেও মেলেনি তার কোনো প্রতিকার। ভুক্তভোগীরা আরও জানান, ভুমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছে এলাকার কিছু প্রভাবশালীরা ।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরবিন্দ বিশ্বাস বলেন এ বিষয়টি আমাদের জানা ছিলনা এখন জেনেছি অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদি সরকারি খাল কেহ দখল করে থাকে তাহলে তা উচ্ছেদ করা হবে বলেও জানান তিনি।