আ’লীগের কেন্দ্রীয় শিক্ষা উপ-কমিটির সদস্য হলেন অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু

বাবুল সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি: আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ উপ-কমিটি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এই উপ-কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে প্রফেসর ড. আব্দুল খালেককে। দলের শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা হয়েছেন সদস্য সচিব। তাদের সঙ্গে এই উপ-কমিটিতে ৩৮ জন সদস্য রয়েছেন।
এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন-স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ (স্বাশিপ) সাধারণ সম্পাদক ও বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এর সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু।অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার বৈকণ্ঠপুর (বড়তল্লা) গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৬৭ সালের ৩০ জুন জন্মগ্রহণ করেন। পুরোনা ঢাকার ঐতিহ্যবাহী পাঁতলা খান লেন যাঁর নামে সেই পাতলা খানই অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজুর পূর্বপুরুষ।
পাতলা খান ১৫৪৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্ব পুরুষ ইরাক থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এ দেশে আগমন করেছিলেন। অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজুর পিতা সামসুল হক একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরে ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়েতে কর্মরত থাকার সুবাদে এলাকার অনেক লোককে রেলওয়েতে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেন।
শাহজাহান আলম সাজু আশুগঞ্জ (পশ্চিম) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজী আঃ জলিল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পাঠ গ্রহণ শেষে ১৯৮৪ সালে ঢাকা গভঃ কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা-ইন-কমার্সে হিসাববিজ্ঞান বিভাগে মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন।তিনি ১৯৮৯ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে হিসাববিজ্ঞানে (বিবিএস সম্মান) এবং ১৯৯০ সালে এমবিএস ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ঢাকা মোহাম্মদপুর থানার বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা মহানগর শাখার সদস্য, ঢাকা গভঃ কমার্শিয়াল ইনস্টিটিউট শাখার আহবায়ক,
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাতীয় কার্যকরী সংসদে দুইবার সদস্য, প্রথম যুগ্ম-সম্পাদক ও সহ-সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার নির্মাণ করায় কর্তৃপক্ষের রোষানলে পড়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষকৃত হন। পরবর্তীতে দেশব্যাপী তীব্র ছাত্র আন্দোলনের ফলে কর্তৃপক্ষ তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন।
১৯৮৮ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক সম্মেলনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোঃ এরশাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দাবি না মেনেই চলে যাবার সময় শাহজাহান আলম সাজুর নেতৃত্বে ছাত্ররা রাস্তায় শুয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করলে রাষ্ট্রপতি তাৎক্ষণিকভাবে ছাত্রদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন। উক্ত ঘটনা পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হলে শাহজাহান আলম সাজু ছাত্রনেতা হিসাবে প্রশংসার সাথে সারাদেশে আলোচিত হন।মেধাবী ছাত্রনেতা শাহজাহান আলম সাজু বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় বড় চাকরির সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে শিক্ষকতাকেই পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন।
আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির এ যুগে এলাকার যুবক সম্প্রদায়কে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আশুগঞ্জে তিনি বঙ্গবন্ধু কারিগরি ও বাণিজ্যিক মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। উক্ত মহাবিদ্যালয়ের তিনি প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ। অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু ২০০৪ সালে আশুগঞ্জ উপজেলার শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত হন। এছাড়াও তিনি আশুগঞ্জে প্রতিষ্ঠা করেন জাহানারা কুদ্দুছ ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট, আশুগঞ্জ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল, হাজী আঃ কুদ্দুছ স্কুল এন্ড কলেজের তিনি দাতা সদস্য এবং স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি।
কর্মমুখী শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে তিনি ময়মনসিংহে প্রতিষ্ঠা করেন ভালুকা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ,টাঙ্গাইলে এলেঙ্গা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও এলেঙ্গা মেডিকেল টেকনোলজি। এছাড়াও তিনি এলাকার বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ, কালভার্ট, মসজিদ মাদ্রাসা নির্মাণ ও উন্নয়নে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন। এছাড়াও তিনি-বাংলা একাডেমী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি, জাতীয় বুদ্ধি প্রতিবন্ধি ফাউন্ডেশন এর আজীবন সদস্যসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু একজন লেখক,
সাংবাদিক ও কলামিস্ট হিসেবেও কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও আশুগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তাঁর লেখা গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মুক্তিযুদ্ধ এবং আশুগঞ্জ,ইসলাম ও বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা যখন কারাগারে, ইসলামের দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, আশুগঞ্জে ইসলাম ও স্মৃতিতে জিল্লুর রহমান অন্যতম। ২০০৯ সালে সরকারের রাজপথের পরীক্ষিত, ত্যাগী নেতা অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজুকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মর্যাদাপূর্ণ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য সচিব পদে নিয়োগ দেয়।
এখনো তিনি সে পদে রয়েছেন। অধ্যক্ষ মোঃ শাহজাহান আলম সাজু শুধু দেশেই নয় দেশের বাইরে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলেও খ্যাতি অর্জন করেছেন। মালয়েশিয়ার লিংকন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির আসন অলংকৃত করে তিনি দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। একজন শিক্ষক নেতা হিসেবে তিনি শ্রীলংকা, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, দুবাই, কুয়েত, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও নেপালসহ বিভিন্ন দেশে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এ অংশগ্রহণ করেন।