আর মাত্র কয়েকঘন্টা এরপর ব্রেক্সিট থেকে বিদায় নিবে যুক্তরাজ্য

ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আজ রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেবে যুক্তরাজ্য। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত এগারোটায় ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

আগামী ১১ মাস পরিবর্তনকালীন সময় (ট্রানজিশনাল পিরিয়ড) হিসেবে বিবেচিত হবে। এই সময়ের মধ্যে যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সকল নিয়ম-কানুন মেনে চলবে এবং বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে। তবে এই সময়ের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোনো প্রশাসনিক কাজ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে না ব্রিটেন।

এর আগে বুধবার (২৯ জানুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার ব্রেক্সিট চুক্তি ঐতিহাসিক ভোটে পাস হয় ইইউ পার্লামেন্টে।

এই দিনটি ব্রিটেনের ‘নতুন যুগের উদয়’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেছেন, ৪৭ বছর পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ত্যাগের জন্য প্রস্তুত ব্রিটেন। আর এটা ব্রিটেনের জন্য শেষ নয়, বরং শুরু।

এ সময় তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি ‘একটি সত্যিকারের পুনরূদ্ধার এবং পরিবর্তনের মুহূর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেন। এছাড়া ব্রিটেনের উত্তরণের সময় শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কিছু পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশ্যা প্রকাশ করছেন জনসন।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি ব্রেক্সিট বিলে স্বাক্ষর করেন রানি রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ। এছাড়া কোনো রকম পরিবর্তন ছাড়াই বিলটি পাস হয় ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উভয়কক্ষে। মূলত ব্রেক্সিট বিল বা ‘ইইউ উইথড্রোয়াল বিলে’ রানির স্বাক্ষর হওয়ার পরেই আইনটি কার্যকর হওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছে।

গণভোটের পর নানা বিপত্তিতে বারবার পিছিয়েছে ব্র্রেক্সিট প্রক্রিয়া। শেষপর্যন্ত এতে ব্যর্থ হয়ে প্রধানমন্ত্রিত্ব ছাড়ত হয় টেরিজা মে’র। এরপর নতুন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে বরিস জনসনও পড়ে গিয়েছিলেন ব্রেক্সিট হুমকিতে। ভোটাভুটিতে বারবার পরাজয় একপর্যায়ে তাকে বাধ্য করে আগাম সাধারণ নির্বাচন ডাকতে। আর তাতেই ব্রেক্সিটে আলোর মুখ পেয়েছেন কট্টর ব্রেক্সিটপন্থি কনজারভেটিভ নেতা।তা দেখা যায়।