আরবি টু আরবি মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট নির্মাতা আব্দুল আলীমকে শিক্ষক বাতায়নে সেরা নির্বাচিত করার দাবী

গোলাপ খন্দকার, সাপাহার(নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ নওগাঁর সাপাহার উপজেলার কৃতি সন্তান প্রভাষক আব্দুল আলীম শিক্ষক বাতায়নের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। আধুনিক ও মানসম্মত আরবি টু আরবি মাল্টিমিডিয়া কনটেন্টের প্রথম নির্মাতা। সাপাহার উপজেলার প্রতিনিধি হিসাবে সারা বাংলাদেশে করোনা মহামারীতে শ্রেণি উপযোগী প্রাণবন্ত আরবি টু আরবি লাইভ ক্লাসের সর্বাধিক ও প্রথম ১০০ ক্লাসের মাইলফলক অতিক্রম করেছেন আব্দুল আলীম সাপাহার উপজেলার পাতাড়ী ফাযিল মাদ্রাসার প্রভাষক( আরবি),

শিক্ষাজীবনে ডিপ্লোমা ইন এরাবিক, এম.এ (ডাবল), এম.ফিল ডিগ্রী লাভ করে। তিনি কয়েক মাস আগে সাপাহার, নওগাঁ ও আইসিটি৪ই জেলা অ্যাম্বাসেডর, নওগাঁ নির্বাচিত হয়। তাঁর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মহোদয় জনাব মোঃ সানাউল্লাহ সাহেবের সাথে কথা বলে জানা গেছে যে, করোনা মহামারীর লগডাউনে সরকার ঘোষিত ছুটিকে কাজে লাগিয়ে ২০২০ ইং সালের মার্চ মাস থেকে দিন-রাত পরিশ্রম করে মাদ্রাসার নবম/দশম শ্রেণির আরবি সাহিত্য বইয়ের কনটেন্ট তৈরির কাজ শুরু করেন।

বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ রুপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নে শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষায় উৎকর্ষ সাধনের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হল শিক্ষক বাতায়ন। তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষা নয় বরং শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার এ মূলমন্ত্র ধারণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, ব্রিটিশ কাউন্সিল, ইউএনডিপি ইউএসএইডের অর্থায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে চালু হয়ে জনপ্রিয়তার উচ্চ শিখরে আরোহণ করছে।

এখন পর্যন্ত শিক্ষক বাতায়নের সদস্য সংখ্যা ৫৪৪২৫৮, কন্টেন্ট সংখ্যা ৪০২১৬৯, মডেল কন্টেন্ট সংখ্যা ৯৫৩ ও জেলা এম্বাসেডর সংখ্যা ২০৭৫ জন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে ৯ লক্ষ শিক্ষক শিক্ষক বাতায়নের অন্তর্ভুক্ত হবে। শিক্ষক বাতায়নে আরবি সাহিত্যের (আরবি টু আরবি) মানসম্মত কনটেন্টের অভাব থেকেই তিনি আরবিতে কনটেন্ট তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর সৃজনশীল মেধা,

একাগ্রতা ও গবেষণামূলক দৃষ্টিভংগির সাথে যুগের চাহিদার সংমিশ্রণে আপলোডকৃত কনটেন্ট সমূহ ইতিমধ্যেই শিক্ষক বাতায়ন কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন মহলে গ্রহনযোগ্যতা, বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন ও আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। এ রিপোট লেখা পর্যন্ত তিনি ৬১ টি মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট (৫০টি ধারাবাহিক প্রেজেন্টেশন) নির্মাণে উক্ত বইয়ের সর্বমোট আটটি অধ্যায়ের পাঁচটি অধ্যায় ও তেইশটি পাঠের পনেরোটি পাঠ ব্যাবহার করে চমৎকার ও বিরল এক মাইলফলক স্পর্শ করে শিক্ষক বাতায়নকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

বইটি শেষ করতে চলমান বাকি তিনটি অধ্যায়ের কাজ অচিরেই শেষ করবেন বলে জানান। জানা গেছে, করোনা মহামারীতে সরকার অনলাইনে পাঠদানের ঘোষণা দিলে তিনি শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে শত প্রতিকূলতার মাঝে থেকেও অনলাইন ক্লাস গ্রহন করেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় বিভিন্ন ফেসবুক পেইজে। তন্মধ্যে “বাংলাদেশ অনলাইন মাদ্রাসা”, “Debidwer Online Madrasha”, “পাতাড়ী ফাযিল অনলাইন মাদ্রাসা”, “Sapahar Online School & Madrasha”, ও “Taragonj Online School” অন্যতম।

শিক্ষক বাতায়ন কর্তৃক অনুমোদিত তাঁর অনলাইন ক্লাসের সংখ্যা ১০৬টি। জানা গেছে, তাঁর অনলাইন ক্লাসের জন্য যারা অভিনন্দন ও উৎসাহ প্রদান করেছেন তাঁদের মধ্যে বিএমটিটিআই, গাজীপুর, ঢাকার সাবেক অধ্যক্ষ ড. গোলাম আযম আজাদ স্যার, সহযোগী অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হক স্যার, সহকারি অধ্যাপক ড. নুরুল্লাহ আল- মাদানী স্যার, নওগাঁর সাপাহার উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব মোঃ শামসুল কবির স্যার, একাডেমিক সুপার ভাইজার জনাব নাজমা আক্তার স্যার, তাঁর প্রতিষ্ঠানের গভর্নিংবডির সভাপতি, অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক বাতায়নের বিভিন্ন জেলার সেরা কনটেন্ট নির্মাতা স্যার/ম্যাম,

সহকর্মীবৃন্দ, অভিভাবকবৃন্দ, শিক্ষার্থীবৃন্দ ও শুভাকাংখীবৃন্দ উল্লেখযোগ্য। জানা গেছে, শিক্ষক বাতায়ন কর্তৃপক্ষ তাঁর কাজকে যথাযথ মূল্যায়ন করে গত ১৭/০৮/২০২০ ইং তারিখে নওগাঁ জেলার ICT4E জেলা অ্যাম্বাসেডর হিসেবে নিয়োগের মাধ্যমে সম্মানিত করেছে। তিনি তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে চলেছেন। অনলাইলে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ গ্রহন করে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে। নিজেকে সমৃদ্ধ করার পাশা-পাশি উপজেলার স্যার ও ম্যামদের অনলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহন করে শিক্ষক বাতায়ন ও অনলাইনে ক্লাস গ্রহন করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

তাঁদেরকে শিক্ষক বাতায়নে কাজ করতে আগ্রহী ও উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে তিনি “সাপাহার উপজেলা শিক্ষক বাতায়ন গ্রুপ” নামে একটি মেসেন্জার গ্রুপ খুলেছেন যা শিক্ষকদের মিলনমেলা হিসাবে কাজ করছে। বাতায়ন আইডি খুলে যাচাই করা, প্রতিষ্ঠনের নামে ফেসবুক গ্রুপ খুলা, অনলাইন ক্লাস, ফেসবুক, বাতায়নে ক্লাস রুটিন তৈরি ও ক্লাসের লিংক যুক্তকরণসহ বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করেন নিজ প্রতিষ্ঠানের স্যার ও ম্যামদের সাথে।

নিজ প্রতিষ্ঠানের জন্য “পাতাড়ী ফাযিল অনলাইন মাদ্রাসা” ও সাপাহার উপজেলার সর্বস্তরের স্যার ও ম্যামদের জন্য “Sapahar Online School & Madrasha” লাইভ ক্লাস গ্রহনের জন্য ফেসবুক পেইজ খুলেন যার এডমিন তিনিই। জাতির দুঃসময়ের কান্ডারী এ শিক্ষকের প্রতি রইল সাপাহার উপজেলার পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও অকৃত্রিম শ্রদ্ধা। কাজের স্বীকৃতি মানুষকে আরও উজ্জীবিত করে। আরও সামনে অগ্রসর হতে অনুপ্রেরণা ও সাহস জোগায়।

তাঁকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করে শিক্ষক বাতায়নের সুবিশাল প্লাটফর্মে দেশ সেরা কনটেন্ট নির্মাতা শিক্ষক হিসাবে দেখতে পাওয়া এখন সময়ের দাবি। সাপাহার উপজেলায় করোনা মহামারীতে যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক/শিক্ষিকা সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তাঁদেরকে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক সম্মাননা প্রদান করলে করোনা যোদ্ধাগণ আরও উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত হয়ে জাতির যে কোনও বিপাদাপদে নিজেদের উৎসর্গ করতে দ্বিধাবোধ করবেন না। অন্যদিকে মহতী এ উদ্যোগ অন্যান্য শিক্ষক/শিক্ষিকাকে