আম্পানে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করলো রায়েন্দা শহররক্ষা বাঁধ

মাহফুজুর রহমান বাপ্পী, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি : ঘূর্ণিঝড় আম্পানে তীব্র পানির চাপ ঠেকিয়ে রায়েন্দা শহরে বসবাসকারী ও ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার মালামাল রক্ষা করলো নির্মাণাধীন বেড়িবাঁধ। যার সুফল মানুষ এখনই পেতে শুরু করেছে।

শত জল্পনা কল্পনা শেষে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ২০১৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে (বাপাউবো) ৩৫/১ পোল্ডারের শরণখোলা, মোরেলগঞ্জের ৬২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মানকাজ শুরু করেন চায়নার “সিএইচডব্লিউই” নামে একটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

একইসাথে রায়েন্দা শহররক্ষা বাঁধ নির্মানেরও সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু স্বার্থান্বেষী এক ব্যক্তির মামলার কারণে শহররক্ষা বাঁধের কাজ বছর খানেক বন্ধ থাকে। তবে, সকল জটিলতা শেষে মেয়াদের তৃতীয় বছরে এসে ২০২০ সালের প্রথম দিকে শুরু হয় শহররক্ষা বাঁধের নির্মান কাজ ।

যা এখনো চলমান রয়েছে। বাঁধটি নির্মাণ করা হলে একদিকে যেমন শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে অন্যদিকে বন্যা, ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাবে শহরে বসবাসরত শতশত পরিবার ও ব্যবসায়ীরা। এছাড়া বাঁধ সংলগ্ন নদীর পাড় হবে একটি দৃষ্টি নন্দন পার্কের মত।

যেখানে মন ভাল রাখতে মানুষ সকালে ও বিকালে হাটাচলা করতে পারবে। ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় সিডরে রায়েন্দা বাজার একেবারে পানির নিচে তলিয়ে যায়। যার কারণে এখানকার মানুষের কোটি কোটি টাকার মালামাল পানিতে ভেসে যায় ও নষ্ট হয়। সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে না উঠতে আবার আয়লার পানি এসে ডুবিয়ে দেয়।

তবে, সিডরের ১২ বছর পরে শহররক্ষা বাঁধ হলেও এখানকার মানুষের মনের আশা পূরণ হতে চলেছে। এ শহরের মানুষদের আর পানিতে ডুবে মরতে হবেনা। রায়েন্দা শহরের ব্যবসায়ীরা বলেন, বন্যার কারণে আমাদের দোকানপাট পানিতে ডুবে গিয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। শহররক্ষা বাঁধের কারণে সেই ক্ষতি হয়তো আর হবেনা।

এখন আমরা জলোচ্ছ্বাস হলেও নির্ভয়ে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারবো। এ ব্যাপারে বেড়িবাঁধ নির্মাণে একমাত্র অবধানকারী রায়েন্দা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা এম এ রশিদ আকন বলেন, অনেক কষ্ট করেছি এই বেড়িবাঁধটি আনার জন্য।

অবশেষে আমরা এর আসল রুপ দেখতে পাচ্ছি। ইতোমধ্যে আমরা এর সুফলও পেতে শুরু করেছি। এই শহরের মানুষ এখন আর ডুবে মরবেনা। আম্পানে আমাদের ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষা করেছে নবনির্মিত এই শহররক্ষা বাঁধ।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, বাঁধ নির্মাণের কারণে এ এলাকার লাখো মানুষ ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষা পাবে। তাছাড়া শহররক্ষা বাঁধ শহরের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিবে। বাঁধের কাজ শেষ হলে শহরের পরিবেশ অনেক সুন্দর হবে।