আমলাতন্ত্রের ফাঁকফোকরে উন্নয়ন প্রকল্পে অদ্ভূত ব্যয় প্রস্তাব

প্রকল্প তৈরিতে থাকে ইচ্ছাকৃতভাবেই অনিয়মের পথনকশা। শাস্তির বিধান না থাকায় পার পেয়ে যান সরকারি কর্মকর্তারা।  

আমলাতন্ত্রের ফাকফোকর গলিয়েই উন্নয়ন প্রকল্পে অযৌক্তিক প্রস্তাবনা আসে। তার মধ্যে থাকছে প্রশিক্ষণের নামে কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান মনে করেন, প্রকল্প তৈরিতে ইচ্ছাকৃতভাবেই অনিয়মের পথনকশা থাকে। আইনে শাস্তির বিধান না থাকায় পার পেয়ে যাচ্ছেন সরকারি কর্মীরা। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রের সম্পদ ব্যবহারে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

সম্প্রতি স্কুলে মিড ডে ফিডিং প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার সরকারি কর্মকর্তার বিদেশ সফরের প্রস্তাব পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। সে রেশ কাটতে না কাটতেই গণগ্রন্থগার অধিদপ্তরের ৩০ কর্মকর্তার ভবন দেখতে বিদেশ যাওয়ার খবর শিরোনাম হয়েছে গনমাধ্যমে।

পুকুর খনন শিখতে বিদেশগমন, লিফট কিনতে বিদেশ গমন ইত্যাদি এরকমই অনেক হাস্যকর বিদেশ ভ্রমণের খবর হরহামেশাই আসে গণমাধ্যমে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, কেন সরকারি কর্মকর্তারা বিদেশ যাচ্ছে তার ব্যাখ্যা কিন্তু দেয়া থাকে। তবে এসব ভ্রমণে কিচু আলো-আঁধারের গল্প আছে তা আমি অস্বীকার করছি না।

কিন্তু অনেক সময় প্রভাবশালীদের অনুরোধে যাচাই বাছাইয়ের ত্রুটি নিয়েই একনেকে পাঠানোর সীমাবন্ধতার কথাও স্বীকার করলেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।

প্রশ্ন হলো, নিয়মে পরিনত হওয়া এসব অনিয়মের শেষ কোথাও। মন্ত্রী বলছেন, আমলাতন্ত্রের প্রচলিত আইনে এর প্রতিকার নেই। তবে এগুলো এখন বিবেচনায় নেয়া হচ্ছে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনায় আমি চাইলেই শাস্তি হবে না। আমিতো অটোক্র্যাট নই। সরকারে যারা কাজ করে তারা সবাই একটা আইনে আবদ্ধ। তাদের লোকাল আইনে বিচার করতে হলে অনেক বিধি বিধান অনুসরণ করতে হবে। আমি জানি যে সে অন্যায় করেছে কিন্তু বিধি বিধান না মেনে আমি তাদের কোন শাস্তি দিতে পারবো না।

অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, সর্ষের ভেতরে থাকা ভুত তাড়াতে কঠোর হতে হবে সরকারকেই।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রজেক্ট যারা ডিজাইন করছে তাদের সন্তোষজনক জবাব না পেলে এর একটি প্রভাব পড়বে। জবাবদিহীতা যদি নিশ্চিত করা যেত তাহলে একটা পরিবর্তন আশা করা যেত।

স্কুল ফিডিং প্রকল্পের বিদেশ ভ্রমন প্রস্তাব সংশোধনের জন্য এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রী। সেই সঙ্গে এ ধরণের কোনো অযৌক্তিক প্রস্তাবনা পিইসি অনুমোদন দেবেনা বলেও জানান তিনি।