আবারো ভাসানচরের পথে রোহিঙ্গারা

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন শিবির থেকে চতুর্থ দফায় সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আরও ৮শ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হচ্ছে।

একই প্রক্রিয়ায় রোববার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ৪শ ৭৭টি পরিবারের ২ হাজার ১৪ জন রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। এদের মধ্যে সোমবার চট্টগ্রাম নৌবাহিনীর জেটি ঘাট থেকে ৮শ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার শামসুদ্দৌজা নয়ন।

তিনি জানান, চতুর্থ দফায় স্বেচ্ছায় যেতে আগ্রহী তিন হাজার রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীর ভাসানচরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি দেখভাল করছে নৌবাহিনী। ইতোমধ্যে ২ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা চট্টগ্রাম পৌঁছেছে। সোমবার পৌঁছাবে আরও প্রায় ৮শ রোহিঙ্গা।জানা গেছে, উখিয়ার বালুখালীর ৮,৯, ১০, ১১, ১২, ও ১৮ নম্বর ক্যাম্প কুতুপালং-১ ইস্ট, ২ ইস্ট, এবং ২ ওয়েস্ট ক্যাম্প থেকে দুই দিনে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা ভাসানচরের উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এর আগে তিন দফায় প্রায় ১১ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থীকে ভাসানচরে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও সমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় সাগর থেকে উদ্ধার করে ৩শ ৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীও ভাসানচরে অবস্থান করছে।

স্বরাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা এখন ১১ লাখ ১৮ হাজার ৫শ ৭৬ জন। এই হিসাব ২০২০ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে বাংলাদেশে ৭ লাখ ৪১ হাজার ৮শ ৪১ জন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। এদের মধ্যে থেকে সরকার ১ লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে।