আবারও চেয়ারম্যান শাহাজালাল মালের নির্যাতনে ৪ জন আহত

খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহজালাল মাল আবারও নিজ হাতে কয়েক জন যুবককে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার বিকালে ফুটবল খেলার মাঠে এই ঘটনা ঘটে।

এই সময় আকাশ, কাউছার. শামীম ও কালু নামে চার জন আহত হয়েছে। পরে তাদের সখিপুর থানা পুলিশের হাতে হস্তান্তর করা হয়। স্থানীয় সাংসদ ও পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীম এর সুপারিশে আটককৃতদের পরিবার মুচলেকা দিয়ে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেয়। হামলায় আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন তারাবুনিয়া ইউনিয়নের কিরণ নগর উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে স্থানীয়দের আয়োজনে কেপিএল ফুটবল টুর্ণামেন্টের আয়োজন করা হয়। শুক্রবার ছিল ওই টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা। ফাইনাল খেলা চলাকালে ধারাভাষ্যক মাসুম জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ ও তার সহধর্মীনি লাবনী কিরণের নাম প্রচার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাজালাল মাল নান্নু মাল ও ইছব মোল্যাকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে খেলার মাঠে প্রবেশ করে। সেখানে চেয়ারম্যান শাহাজালাল মাল উত্তেজিত হয়ে আকাশ নামে একজনকে গালমন্দ করে।

আকাশের চাচাতো ভাই কাউসার বেপারী প্রতিবাদ করায় শাহাজালাল মাল, তার ভাই কামরুল ও মনির মিলে কালু, আকাশ, কাউছার ও শামীমকে মারধর করে। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী রিপনের দোকানে নিরাপদে রাখে। এর কিছুক্ষণ পরে চেয়ারম্যানের লোকজন দলবেঁধে এসে রিপনের দোকান থেকে তাদের ছিনিয়ে নিয়ে আবারও মারধর করে। পরে তাদের ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রেখে সখিপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। চেয়ারম্যান ক্ষমতায় বসার ৫ মাসের মধ্যে একাধিক মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও জানায় তারা।

এই বিষয়ে হামলায় শিকার কালু মিয়া বলে, আমি সৌদি প্রবাসী। দলীয় কোন রাজনীতির সাথে আমার কোন সম্পৃক্ততা নাই। তাছাড়া আমার বড় ভাইয়ের ছেলের মিলাদের মিষ্টি বিতরণ করে খেলার শেষ পর্যায়ে মাঠে যাই। মাঠে যাওয়ার সাথে সাথে চেয়ারম্যান ও তার ভাই-ভাদিজা মিলে আমাকে মারধর করে আর বলে ছাত্রদল করিস আর নেতাগিরী করিস। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে রিপনের দোকানে রাখে। এর প্রায় ঘন্টাখানেক পরে চেয়ারম্যানের ভাই-ভাতিজাসহ ৪০ থেকে ৫০ জন লোক এসে দোকান থেকে ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে আবারও মারধর করে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রাখে। পরে আমাকে পুলিশে হস্তান্তর করে। আমার এক বড় ভাই আমাদের এমপি পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামিমের সাথে বিষয়টি আলোচনা করেন। উপমন্ত্রীর অনুরোধে মুচলেকা রেখে পুলিশ আমাকে ছেড়ে দেয়।

ফারুক বেপারী জানায়, নান্নু মাল, ইসব মোল্যা ও চেয়ারম্যান শাহাজালাল মাল খেলা শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগে মাঠে আসে। ভাষ্যকার কিরণ ও লাবনি কিরণের নাম ঘোষণা করে। তখন খেলা ভিডিও করতে থাকা ছেলেদের ডেকে চেয়ারম্যান গালমন্দ করে। আমার ভাতিজা ওদের ক্ষমা করে দেয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে অনুরোধ করেন। তখন চেয়ারম্যান আমার ভাতিজার কলার চেপে ধরে বলে বিএনপির ব্যাচ লাগিয়ে গ্যাদারিং করস। এর পরেই হট্টগোল লেগে যায়। পরে চেয়ারম্যানের ভাইয়েরা লোকজন নিয়ে এলোপাথারী মারধর করে। কয়েকজনকে পরিষদে আটকে রেখে পুলিশে হস্তান্তর করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, চেয়ারম্যান খুব বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। একের পর এক অপকর্ম করেই চলছে। শুক্রবারের এই সংবাদ পাওয়ার পরে আমাদের পানী সম্পদ উপমন্ত্রীর সাথে ফোনে আলাপ করি। পরে তার সহায়তায় থানায় মুচলেকা দিয়ে আটককৃতদের ছাড়িয়ে নেই।

এই বিষয়ে চেয়ারম্যান শাহাজালাল মাল বলেন, এলাকায় একটি ফুটবল খেলার আয়োজন করা হয়। সেখানে যুবদল ও ছাত্রদলের কতিপয় লোকজন জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ ও তার স্ত্রী লাবনী কিরণের নাম ঘোষনা করে। এই প্রচারে বাঁধা দেয়ায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে খেলার মধ্যে বিশৃঙ্খলা করে। পরে তাদের আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করি। বিষয়টি উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম এমপির নির্দেশে মুচলেকা দিয়ে আটককৃতদের থানা থেকে ছাড়িয়ে আনি।

সখিপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, দক্ষিন তারাবুনিয়া এলাকায় ফুটবল খেলার মাঠে মারামারি হয়। সেখান থেকে দুইজনকে সেফ করে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে। পরে উপমন্ত্রী মহোদয় ও চেয়ারম্যানের সাথে আলোচনা করে অভিভাবকের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।