আত্রাইয়ে দীর্ঘদিন ধরে অকেজো ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স

মোঃ কাজী রহমান, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ স্বাস্থ্য সেবা মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছে দিতে নওগাঁর আত্রাই ইউনিয়ন পর্যায়ে চালু হয়েছিল ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ‘ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স’।

যার সুবিধা ভোগ করতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষরা গ্রামের কাঁচা-পাকা রাস্তায় ছুটে চলা সেই ‘ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্স’ দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, (এল,জি,এস,পি-২)থেকে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে আত্রাই উপজেলার ৮ টি ইউনিয়নে ‘ভ্রাম্যমাণ এম্বুলেন্স’ চালু করা হয়েছিল। প্রতিটা ‘ভ্রাম্যমাণ অ্যাম্বুলেন্সে’ ২ লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা ব্যয় করা হয়।

২৪ ঘন্টা স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত থাকার জন্য অ্যাম্বুলেন্স এর গায়ে জরুরি প্রয়োজনে ফোন নম্বর দেওয়া হয়। যাতে যে কোন ইউনিয়নের যেকোনো গ্রাম থেকে ফোন দিয়ে ঠিকানা জানিয়ে দিলেই বাড়ির দোর গোড়ায় গিয়ে হাজির হতো অ্যাম্বুলেন্সটি।

অ্যাম্বুলেন্স টি দেখা শোনার দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানদের। নির্দিষ্ট কোন বেতন ভুক্ত চালক না থাকায় কখনো গ্রাম পুলিশ আবার কখনো স্থানীয়দের দিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি পরিচালনা করা হতো। ‘ভ্রাম্যমান অ্যাম্বুলেন্স’ এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বা কমিউনিটি ক্লিনিকে সহজেই রোগীকে আনা-নেয়া করা হতো।

কিন্তু সেই অ্যাম্বুলেন্স গুলোর ব্যাটারি না থাকায় দীর্ঘদিন থেকে খোলা আকাশের নিচে রোদে-বৃষ্টিতে পড়ে থেকে মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আবার দু-একটা ভালো থাকলেও এখন আর রোগীদের সেবার কাজে ব্যবহার করা হয় না। পাঁচুপুর ইউনিয়নের অ্যাম্বুলেন্স চালক বিশু দেওয়ান বলেন, এই গাড়ি দেওয়ার পর বছর খানিক ভালোই চলছে। গ্রামের কাঁচা পাকা রাস্তায় এই গাড়ি চালাতে খুব মুশকিলের মধ্যে পড়তে হয়।

এখন প্রায় দুই বছর ধরে ব্যাটারি নষ্ট হয়ে অকেজো হয়ে আছে। পাঁচুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফসার প্রামাণিক বলেন, এই গাড়িগুলো ব্যাটারিচালিত তাই অল্প সময়ের মধ্যেই তা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও গাড়ির সংস্কার করার কোনো বরাদ্দ আসে নাই।যদি এই গাড়িগুলো ইঞ্জিন চালিত হত তাহলে আরো অনেক ভালো হতো।

হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস শুকুর সরদার বলেন, আমি অ্যাম্বুলেন্সটির এক বার ব্যাটারি পরিবর্তন করেছিলাম। তবে বেশ কিছুদিন হল গাড়িটি আবারো নষ্ট হয়ে রয়েছে খুব দ্রুত আবারো মেরামত করা হবে। এবং আগের মতোই রোগীরা সেবা পাবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেদের স্বাস্থ্য সেবার কথা চিন্তা করে এই ভ্রাম্যমান অ্যাম্বুলেন্স গুলো আবার চালু করা হোক এটাই দাবি সচেতনদের।