আজ শোকাবহ জেল হত্যা দিবস

আজ (মঙ্গলবার) জেলহত্যা দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশ তো বটেই মানব সভ্যতার ইতিহাসে আরেকটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের মধ্যরাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ৪৫ বছর পর আজও তাদের স্বজনরা সে দিনের ঘটনার পেছনের কুশীলবদের খুঁজে বের করার দাবি জানিয়ে আসছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতির জনকের হত্যাকাণ্ড ষড়যন্ত্রের বর্ধিত অংশ জাতীয় চার নেতাকে হত্যা। মূল ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচনে কমিশন গঠনের ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

তখন মধ্যরাত। পূর্ব পরিকল্পনায় অতর্কিত হামলা। কারাগারে আটক চার সূর্য সন্তানকে প্রথমে গুলি, তারপর বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে হায়নার দল। এরপরও রাত শেষে ভোর হয়। তবে সে দিনের ভোর ছিল গভীর অন্ধকারে ঢাকা।

মৃত্যুর আগে জাতীয় চার নেতা রেখে গেছেন বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। যা সমর্পিত ছিল দেশ ও মানুষের কল্যাণে। ভাষা আন্দোলন দিয়ে শুরু, এরপর মুক্তিযুদ্ধ। দেশ স্বাধীন হবার পর রাষ্ট্র নির্মাণেও তারা ছিলেন কাণ্ডারীর ভূমিকায়। এত সফলতা এবং ত্যাগের পরেও কেন হত্যা করা হলো জাতীয় চার নেতাকে?

এই জঘন্য হত্যার পিছনের ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে পেতে স্বাধীন কমিশন গঠনের কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

চার নেতার সন্তানরা হারিয়েছেন তাদের পিতাকে। দেশ হারিয়েছে তার সেরা সন্তানদের। আত্মস্বীকৃত হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করা গেলেও সবার শাস্তি কার্যকর করা যায়নি আজও। ন্যায় বিচারের অপেক্ষার প্রহর কেবল দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

এএইচএম কামারুজ্জামানের সন্তান রওশন আখতার রুমি বলেন, ‍যুদ্ধ আর নেতৃত্ব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। জয় হয়েছে দেশের, জয় হয়েছে মানুষের। নৃশংসতায় ভরা ৩ নভেম্বর এ ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে থমকে দিয়েছিল।

চার নেতার পরিবারের সদস্যদের চাওয়া খুবই সামান্য, কলঙ্কজনক এই অধ্যায়ের কথা জানুক নতুন প্রজন্ম।