আজ জাতির পিতা শেখ মুজিবের জন্যই দেশে এত শান্তি এত সমৃদ্ধি-এম,পি শিবলী সাদিক

মোঃ আজিনুর রহমান, নবাবগঞ্জ,দিনাজপুর: “আজ জাতির পিতা মুজিবের জন্যই দেশে এত শান্তি এত সমৃদ্ধি” বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোষ্টে তিনি এক কথা বলেন- দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক । গত ৩০ নভেম্বর তার নিজ ফেইস বুক পোষ্ট বলেন- রাজনীতি করা খারাপ বিষয় নয় রে পাগলা। নেতার কর্মকান্ড গুলোই রাজনীতিকে খারাপ, ভালো বানায়।

মুখে এক কথা, কর্মে আর এক সুর, মিষ্টভাষী চমৎকার মোটিভেশন, পারফেক্ট পলিটিশিয়ান, যেমন তার গুণের কথা সবাই জানে, সে নিজেও জানে না, এক সময়ে তার দোষগুলো সবাই জানে অবস্থানের কারণে হয়তো এখন সে বিষয়টা বুঝতে পারেনা, দলের আদর্শে কথা নিয়ে, চিৎকার-চেঁচামেচি আস্ফালন করে অথচ ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে বিক্রি আপাদমস্তক বিসর্জন, লোকচক্ষুর আড়ালে সবকিছু, চমৎকার চলছে রাজনীতি নেতা বলে কথা, অবাক চোখে তাকিয়ে দেখছি, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়টা নিয়ে যখন থেকে হেফাজত, চরমোনাই এবং আরো দু একজনের নেতৃত্বে প্রতিবাদের সুর তুলেছে, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি তৈরি করতে দেয়া যাবে না, এই স্বাধীন বাংলাদেশে, ছাত্রলীগের কন্ঠে প্রতিবাদের সুর মৌলবাদের বিরুদ্ধে জাগ্রত হয়েছে।

অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই ছাত্রলীগকে, অনেকেই মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে, আমি ধিক্কার জানাই তাদের প্রতি, আজ পিতা মুজিবের জন্যই এত শান্তি এত সমৃদ্ধি এত বড় বড় অবস্থান। এই মানুষটির জন্যই বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে, আমরা পেয়েছি ওই সবুজ লাল পতাকা। ৭১, এর পরবর্তী প্রজন্ম পেয়েছে আমাদের পিতা মাতার পরিচয়, আমি বাঙালি আজ চিৎকার করে বলতে পারি, একজন শেখ মুজিব মৃত অবস্থায়, তার ভাস্কর্য যদি এত বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে, তাহলে জীবিত শেখ মুজিব মৌলবাদের কাছে, ওই পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের কাছে কতটা ভয়ঙ্কর ছিল, কিসের অপেক্ষায় তুমি আমি বসে আছি, তোমরা কি দেখতে পাচ্ছো না, মৌলবাদের আস্ফালন, পিতা মুজিবের যে অবদান এই দেশের তরে সেই প্রকৃত ইতিহাস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ধরে রাখবার জন্য পিতা মুজিবের ভাস্কর্য অবশ্যই বাংলাদেশের প্রতিটি গুরুত্বপুর্ন এলাকায় স্থাপনের জন্য আমি আকুল আবেদন জানাই, ১৯৭১ সালে যারা হয়তো উলঙ্গ অথবা হাফপ্যান্ট পড়ে ঘুরে বেড়াতো, তারা জাতির জনকের ভাস্কর্যের স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

দেশ উদ্ধার করতে চায়, ধর্মের দোহাই দিয়ে, অথচ আমিও মুসলিম, আমি আমার ধর্ম পালন করি, কয়েক যুগ ধরে, সকল জাতিবর্ণের মানুষের সঙ্গে নিজের কষ্ট ভাগাভাগি করি, নিজের সুখের অংশীদারিত্ব বোঝাই, এই অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে, ম্লোগানে মুখরিত মাঝেমাঝেই রাজপথ, ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার, মৌলবাদের চোখে আংগুল দিয়ে বলতে চাই, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শুধু মুসলিম এই দেশের জন্য যুদ্ধ করেনি, যুদ্ধ করেছে সকল ধর্মের বর্ণের মানুষ, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়, আদিবাসী সম্প্রদায়, অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষ, সব থেকে বড় কথা পাকিস্তান মুসলিম দেশ হয়েও আমাদের উপরে যে অন্যায় অত্যাচার চালিয়েছে, সেই সময় হিন্দু রাষ্ট্র পাশের দেশ ভারত যদি সহযোগিতা না করত হে মৌলবাদের নেতাগণ তোমাদের চিৎকার করার মঞ্চটা ও এই বাংলার মাটিতে আর হতো না, তোমরা ভূমিষ্ঠ হতে আফগানিস্তান পাকিস্তান তালেবানি কোন রাষ্ট্রের বিরান ভূমিতে, পিতৃ পরিচয় হীন, বীরঙ্গনার জঠর থেকে, এ দেশ আমার আমি বাঙালি, আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি, আমার অস্তিত্ব জুড়ে ।

এ দেশের প্রকৃত ইতিহাসের প্রতিটি পাতায় পাতায় আমার শ্রদ্ধা নিবেদন, আমার ভালোবাসা আমৃত্যু অটুট থাকবে এটাই একজন বাঙ্গালী হিসেবে আমি শপথ হিসেবে গ্রহণ করেছি, বীর বাঙালির প্রকৃত সন্তানেরা কোনদিন এই দেশে মৌলবাদী কোন চিন্তা শক্তি কোন রক্ত চক্ষুকে বরদাস্ত করবে না, ধর্মের জন্য ইসলামের জন্য যদি কখনো যুদ্ধে যেতে হয়, মনে রেখো হে মৌলবাদ, তোমাদের থেকে আমরাই অনেকে এগিয়ে থাকব শুধুমাত্র ইসলামকে সমুন্নত রাখার জন্য, সকল কওমি মাদ্রাসার স্বীকৃতি জাতির জনকের কন্যা দিয়েছে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মডেল মসজিদ জাতির জনকের কন্যা দিয়েছে, এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে পিতা মুজিব থেকে শুরু করে জননেত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত, তোমরা ঘুমন্ত অবস্থায় হুংকার দিয়ে চলেছে আর আমরা জেগে থেকে তোমাদের কে লক্ষ্য করে যাচ্ছি, মনে রেখো যত কষ্ট করে বাংলার এ পর্যায়ে এসেছি, ততটাই সহজে দেশকে ভূলুণ্ঠিত করতে দেবো না, কোন অবস্থাতেই, দেশের প্রকৃত ইতিহাস এর পক্ষে জাগ্রত হোক সকল কণ্ঠ, সকলের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।