আজ গাইবান্ধা হানাদার মুক্ত দিবস

জাভেদ হোসেন, গাইবান্ধা প্রতিনিধি : ৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা হানাদার মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর বিকেলে গাইবান্ধাকে শত্রুমুক্ত করতে কোম্পানী কমান্ডার মাহবুব এলাহী রঞ্জু (বীরপ্রতীক)’র নেতৃত্বে পূর্ব প্রান্ত কালাসোনার চর ক্যাম্প থেকে ব্রহ্মপুত্র পেরিয়ে আসা মুক্তিযোদ্ধারা জেলা শহরের অদূরে ফলিয়া কাঠের ব্রীজের একপ্রান্তে অবস্থান নেয়। সেখানে পাকিস্তানী সেনা ও রাজাকারদের সাথে তাদের যুদ্ধ শুরু হয়। ৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমনের মুখে শত্রুরা পিছু হটতে শুরু করে। ওই দিন বিকেলে ভারতীয় যুদ্ধ বিমান থেকে গাইবান্ধা স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বোমা বর্ষন করা হয়। আক্রমনের মুখে পাকিস্তানীরা ওই রাতেই গাইবান্ধা স্টেডিয়ামে স্থাপিত ঘাঁটি থেকে রংপুরের দিকে পালাতে শুরু করে। ৭ ডিসেম্বর সকালে পাকিদের পরাজিত করে বীরের বেশে মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করেন। তৎকালীন এসডিও মাঠে মুক্তিপাগল জনতা তাদের স্বতস্ফূর্ত সংবর্ধনা দেয়। গাইবান্ধাকে হানাদার মুক্ত করে সেখানে বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন কমান্ডার মাহবুব এলাহী রঞ্জু।
মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ স্বত্বেও ভারী অস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানী হানাদাররা ৭১’র ১৭ এপ্রিল গাইবান্ধায় প্রবেশ করে গাইবান্ধা স্টেডিয়ামে তাদের ঘাঁটি স্থাপন করে। সংলগ্ন কফিল শাহ’র গোডাউন ছিল তাদের নির্যাতন কেন্দ্র। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষকে ধরে এনে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে তাদের হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হত। অসহায় নারীদের আর্ত চিৎকারে রাতগুলো ছিল বিভিষিকাময়।
আজ শনিবার সকাল এগারো টায় গাইবান্ধা হানাদার মুক্ত দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও হানাদারমুক্ত দিবস উদযাপন কমিটি গাইবান্ধা শহরের পূর্বপাড়ার পুরোনো একচেঞ্জের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয়। এটি উদ্বোধন করবেন জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিন। শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেবেন ৭১’র ৭ ডিসেম্বর গাইবান্ধা হানাদারমুক্ত করে শহরে প্রবেশ করা রঞ্জু কোম্পানীর কমান্ডার মাহবুব এলাহী রঞ্জু বীর প্রতীক ।