আগামী আগস্ট মাস থেকে চালু হবে মৈনট টু গোপালপুর ঘাটের ফেরি

কাজী জোবায়ের আহমেদ, দোহার প্রতিনিধি: আগস্ট মাস থেকেই চালু হতে যাচ্ছে ফরিদপুরের মানুষের বহুল প্রতিক্ষিত গোপালপুর-মৈনটঘাটের ফেরি চলাচল। ফরিদপুরের গোপালপুর ও দোহারের মৈনটঘাটের এলাকা ঘুরে দেখেন বিআইডব্লিওটি ‘র প্রতিনিধি দল।

সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী। ফেরি চলাচলের আগে এই রুটে চালু করা হবে সি-ট্রাক। শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি টিম গোপালপুর-মৈনটঘাট নৌ রুট পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনসহ স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন এখানে ফেরি চালুর উদ্যোগ নেন।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের দুটি ফেরিও নিয়ে আসা হলেও নানা জটিলতায় আর চালু করা যায়নি। পরে এমপি নিক্সন আরও বিআইডব্লিওটিএ’র ফেরি চালু উদ্যোগ নেন। পরে গতমাসে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এই রুটে ফেরি চালুর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ওই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে বিআইডব্লিওটিএ’র চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক, প্রধান প্রকৌশলী মহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামসহ ঊর্দ্ধতন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় ও অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের একটি দল ঘাট ও নৌরুটটি পরিদর্শনে আসেন। স্থানীয়দের আবেদনের প্রেক্ষিতে তিনি গোপালপুর টু মৈনটে ফেরিচলাচলের উদ্যোগ নেন।

পরে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় জরিপ করে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে এই রুটে ফেরি চালুর নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন। বিআইডব্লিওটিএ’র চেয়ারম্যান গোলাম সাদেক জানান, সড়ক বিভাগের মাধ্যমে এমপি নিক্সন এখানে ফেরি চালুর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিষয়টি নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের, সেজন্যই সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে ফেরি চালু করা সম্ভব হয়নি। অভ্যান্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ জরিপসহ সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। খুব শীঘ্রই এখানে ফেরি চালু হবে। সেজন্য ড্রেজিং করা, সংযোগ সড়কটি চওড়া ও ঘাট নির্মাণ করতে হবে। এই সপ্তাহ থেকেই ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হবে।

সড়ক বিভাগ সংযোগ সড়কটি চওড়া করে দিলেই ফেরি চালু করা সম্ভব হবে। তিনি আরও জানান, এর আগেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আগামী মাসের মধ্যেই সি-ট্র্যাক চালু করা হবে। যাতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই যাতায়াত করতে পারেন। এসময় স্থানীয় সাংসদ নিক্সন চৌধুরী বলেন, ফেরি ঘাটটি চালু বিষয়টি আমার নির্বাচনী ওয়াদা। পুরো প্রক্রিয়া শেষের পথে। আগামী মাস থেকে সি-ট্র্যাক ও ৪/৫ মাসের মধ্যে ফেরি চালু হবে। এতোদিন এই অঞ্চলের মানুষে যে ভোগান্তি হতো তা লাঘোব হবে।

উল্লেখ্য, চরভদ্রাসন, সদরপুর, নগরকান্দা ও ফরিদপুর সদরের একাংশে তিন লক্ষাধিক মানুষ ঢাকা যাওয়া আসার জন্য এই নৌরুটটি ব্যবহার করে। এতোদিন স্পিডবোট, ট্রলার চললেও সন্ধ্যার পরে বন্ধ থাকতো। ভোগান্তির সঙ্গে যাত্রীরা গুনতেন বাড়তি ভাড়াও।