পবিত্র শবে মিরাজ

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাতে সারাদেশে পবিত্র শবে মিরাজ পালিত হবে। দিনটি উপলক্ষে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে মিলাদ, দোয়া, ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

শবে মিরাজের রাতে মুসলমানরা ইবাদত করেন। মসজিদে মিলাদ, নফল নামাজ আদায়, কোরআন তেলাওয়াত করেন।

লাইলাতুল মিরাজ উপলক্ষে সারাদেশের মসজিদগুলোতে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য এদিনে মুসলমানরা ইবাদত করেন।

এদিনে মহানবী (স.) আল্লাহর নৈকট্য লাভ করেছিলেন। করোনা মহামারির কারণে গত বছর শবে মেরাজের কোনও আয়োজন করেনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

১৩ ফেব্রুয়ারি পবিত্র জমাদিউস সানি মাস ৩০ দিন পূর্ণ হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি রোববার থেকে পবিত্র রজব মাস গণনা শুরু হয়। ফলে ১১ মার্চ বৃহস্পতিবার রাতে পবিত্র এ রজনী পালিত হবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে

‘মিরাজুন্নবী (স.)’ এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া ও মোনাজাত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক ড. মুশফিকুর রহমান।

আলোচনা করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা

রফিক আহমাদ ও জামেয়া ইসলামিয়া মাদরাসার শায়খুল হাদীস ড. মাওলানা মুশতাক আহমদ।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ঊর্ধ্বলোকে পরিভ্রমণের ঐতিহাসিক ও অলৌকিক ঘটনার স্মারক দিবস।

এই রাতেই মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা শরিফ থেকে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)-এর সঙ্গে

সপ্তম আসমান পেরিয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সাক্ষাৎ লাভ করে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসেন।

এ কারণেই হিজরি রজব মাসের ২৬ তারিখের রাতটি মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।

ইসলামের ইতিহাসে পবিত্র এ রাতটি বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়।

শবে মিরাজের এ মহিমান্বিত রাতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, নফল নামাজ, জিকির-আসকার, দোয়া-দরুদ, মিলাদ মাহফিলসহ

ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানি কামনা করা হয়ে থাকে।

মহানবী (সা.) এ রাতে প্রথমে কাবা শরিফ থেকে বোরাক নামের বাহনে যাত্রা করে ফিলিস্তিনের বায়তুল মোকাদ্দাস মসজিদে যান।

সেখানে অন্যান্য নবী-রাসুলের সঙ্গে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করেন। এরপর ঊর্ধ্বলোকে সফর শুরু করেন।

এ সময় তিনি নভোমণ্ডল, বেহেশত-দোজখ ও সৃষ্টির বিভিন্ন রহস্য প্রত্যক্ষ করেন এবং পূর্ববর্তী নবীদের সাক্ষাৎ লাভ করেন।

সপ্ত আসমান পেরিয়ে তিনি আরশে আজিমে ধনুক পরিমাণ দূরত্বে থেকে মহান আল্লাহ পাকের দিদার লাভ করেন।

সরাসরি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের সঙ্গে তাঁর কথোপকথন হয়। এই সফরেই উম্মতে মোহাম্মদির জন্য প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে নির্ধারিত হয়।

এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করেছে।

এতে খতিব মাওলানা মুহাম্মদ সালাহউদ্দীনসহ বিশিষ্ট ওলামায়ে-কেরামরা ওয়াজ করবেন।