আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ত্রিপুরায় পৌঁছালো ট্রানজিটে ভারতীয় পণ্যের ১ম চালান

জহিরুল ইসলাম সাগর, আখাউড়া প্রতিনিধিঃ আখাউড়া-আগরতলা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের নৌপ্রটোকল ট্রান্সশিপমেন্ট ‘প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড’ (পিআইডব্লিউটিটি) চুক্তির আওতায় ভারতীয় পণ্যের প্রথম চালান আজ ভারতের ত্রিপুরায় পৌঁছেছে। ১০৩ মেট্রিক টন রড ও ডাল নিয়ে ৪টি ট্রেইলর আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে সকাল ৯টার দিকে আগরতলা স্থলবন্দর প্রবেশ করে। ভারতীয় অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালানটি উদ্বোধন করে ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।

ডাল গ্রহণ করে ভারতের গৌহাটির প্রতিষ্ঠান ইটিসি অ্যাগ্রো প্রসেসিং ও ইস্পাত গ্রহণ করে আগরতলার এস এম করপোরেশন লিমিটেড। বাংলাদেশের ম্যাংগু লাইন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভারতের ডার্সেল লজিস্টিক লিমিটেডের পাঠানো পণ্যগুলো পরিবহন করছে কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট আদনান ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। এর আগে মঙ্গলবার ভারতের কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি বন্দর থেকে ‘এমভি সেঁজুতি’ জাহাজে করে চালানটি চট্টগ্রাম নৌবন্দর জেটিতে নোঙর করে। পরে চট্টগ্রাম বন্দরে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে সড়কপথে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে উত্তর-পূর্ব রাজ্যে পরিবহনের পরীক্ষামূলক প্রথম চালানটি আখাউড়া স্থলবন্দরে আনা হয়। বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চারটি ট্রেইলর আখাউড়া স্থলবন্দরে প্রবেশ করে।

কুমিল্লা কাষ্টমসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইসতিয়াক জানান, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম নৌবন্দর ও মহাসড়ক ব্যবহার করে প্রথমবারের মত পরীক্ষামূলক ভাবে ভারতে পণ্য পরিবহণ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো উন্নত হবে এই পণ্য পরিবহণের মাধ্যমে। তিনি আরো বলেন, এই ট্রানজিট পন্য থেকে শুল্ক আদায় হয়নি তবে ডকুমেন্ট প্রসেসিং, ট্রান্সশিপমেন্ট, সিকিউরিটি, অ্যাসকট, বিবিধ প্রশাসনিক চার্জ মিলিয়ে এই পণ্য থেকে ৪২ হাজার টাকা মাসুল আদায় হয়েছে।

উল্লেখ্য ২০১৮ সালের ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্যা ইউজ অফ চট্টগ্রাম এন্ড মংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু এন্ড ফ্রম ইন্ডিয়া চুক্তির আওতায় আর্টিক্যাল টু (অনুচ্ছেদ দুই) অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর উভয় দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ি এসব পণ্য বাংলাদেশের উপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারত। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ব্যবসায়িদের সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।