আখাউড়ায় শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ

জহিরুল ইসলাম সাগর, আখাউড়া প্রতিনিধিঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীতে পড়ুয়া এক ছাত্রী কে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ঐ স্কুলেরই সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আশরাফুল আলম (হিরন) এর বিরুদ্ধে। তদন্তপূর্বক ব্যাবস্থা গ্রহনের আশ্বাস ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির।
বৃহস্পতিবার(২রা জুলাই) শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রীটির মা মোছাঃ আয়েশা বেগম বাদী হয়ে মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কমিটির সভাপতির কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার সাক্ষী হিসেবে নবম শ্রেণির ২ জন ছাত্রীর নাম উল্লেখ্য করা হয়েছে মানবিক কারনে তাদের নাম ও শ্লীলতাহানির শিকার ছাত্রীটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে স্কুল বন্ধ থাকায় মেয়েটি বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টার সময় সহপাঠীদের সাথে ঐ স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ আশরাফুল আলম হিরন এর কাছে কোচিং করতে যায়। কোচিং শেষে ফেরত আসার সময়ে তাকে একাকীত্ব করে জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এবং তার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাত প্রাপ্ত হয়। এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চেয়ে মেয়েটির মা প্রধান শিক্ষক ও স্কুল কমিটির সভাপতির কাছে একটি দরখাস্ত দিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগে আয়েশা বেগম জানান, আমার মেয়ে সকাল ৯ টায় অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে কোচিং করতে যায়। ফেরার সময়ে তাকে একা করে রুমের ভিতর জোর পূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এবং এসময় মেয়েটির স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেয় ঐ শিক্ষক হিরণ। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অশ্লীল আচরণের পাশাপাশি তার গালে একাধিক কামড় রয়েছে । তিনি আরো বলেন, মেয়েটি বিধ্বস্ত অবস্থায় মুখের কামড়ের দাগ নিয়ে বাড়ীতে ফিরলে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে শিক্ষকের অপকর্মের কথা তাকে খুলে বলে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির একটানা ৫ বারের সফল সভাপতি মোঃ নোয়াব মিয়া মোবাইলে বলেন, আমি অভিযোগ পেয়েছি তবে এধরনের ঘটনা অপ্রত্যাশিত অত্যান্ত লজ্জাজনক, মেয়ের বয়সের ছাত্রীর সাথে এধরণের কুকর্ম মেনে নেওয়া যায় না। তিনি আরো বলেন, ঘটনার বিস্তারিত শুনে আমার প্রাথমিক ভাবে ধারনা হয়েছে ঘটনা আংশিক সত্য হতে পারে এবং আগামীকাল জরুরি মিটিং ডাকা হয়েছে বিষয়টি যথাযথ তদন্ত করে ঘটনা সত্য প্রমানিত হলে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

এবিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রসুল আহমেদ নিজামী বলেন, আমার কাছে এখনো কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি যদি ভোক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।