আকস্মিক বণ্যায় হাইমচরের পান চাষিদের অন্তহীন দুর্ভোগ

মোহহম্মদ বিপ্লব সরকার, চাঁদপুর প্রতিনিধিঃ বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের প্রভাব এখনো কাটিয়ে না উঠতেই বিপাকে পড়েছে হাইমচরের পানচাষীরা। অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পানের বরজ।

আচমকা মেঘনার পানি বেড়ে উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণের অস্থায়ী বাঁধের দুটি স্থান ভেঙে প্রায় ৫ শতাধিক পানের বরজ প্লাবিত হয়েছে। কয়েকশ’ বরজে পানি ঢুকে নষ্ট হয়েছে কয়েক লক্ষ টাকার পান। এতে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পানচাষিরা।

প্রায় ৬০/৭০ বছর আগ থেকে চাঁদপুরের হাইমচরে পান চাষ হয়ে আসছে। বাজারে পানের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি অর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় হাইমচরের কৃষকরা পান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠে। সময়ের সাথে সাথে হাইমচরের পানের চাহিদা ছরিয়ে পরে সর্বত্র । এতে নতুন সম্ভাবনা দেখা দেয় পান চাষে।

হাইমচর উপজেলা কৃষি অফিস কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এই উপজেলায় ২২০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। এখানে প্রায় ২০০ জনের বেশি চাষি এ এলাকায় পান চাষ করছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এবছর পানের উৎপাদন ভালো হলেও বিক্রি নেই তেমন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে দিনের পুরো সময় চা-পানের দোকানগুলো বন্ধ থাকায় পানচাষিদের পান বিক্রিতে এর প্রভাব পড়ে। এদিকে ৫ আগস্ট হঠাৎ মেঘনার পানি বেড়ে গিয়ে উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের উত্তর আলগী ইউনিয়নের মহজমপুর এবং সাবু মাস্টারের মোড়ের অস্থায়ী বাঁধের দুটি স্থান ভেঙে যায়।

বিপদসীমার ৭৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত মেঘনার পানি সেচ প্রকল্পের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পানের বরজ প্লাবিত করেছে। মুহূর্তেই কয়েকশ’ বরজে পানি ঢুকে নষ্ট করে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকার পান। বর্তমানে প্রায় ৫ শতাধিক পানের বরজে হাঁটু সমান পানি। এতে বাধ্য হয়ে অপ্রাপ্ত পান ঘরে তুলতে হচ্ছে। আর পানের বরজে ২দিনের বেশি পানি থাকলে পানের লতাগুলো মরে যাবে।