আইনি জটিলতায় পদোন্নতি বঞ্চিত গম গবেষণা কেন্দ্র ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ভুট্টা শাখার বিজ্ঞানীরা

আশজাদ রসুল সিরাজী, গাজীপুর প্রতিনিধি : প্রায় ১৭ বছর একই পদে থেকেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না বাংলাদেশ কৃষি গবেষণার তৎকালীন গম গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানী মোস্তফা খানসহ আরও ১০-১২ জন। মোস্তফা খান ও মাহমুদুল হাসান পদোন্নতির আবেদন করেছিলেন। তাদের আবেদন কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ডক্টর আবুল কালাম আযাদ ফরওয়ার্ড করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলেন। এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছেন আর এক মহাপরিচালক ডক্টর আব্দুল ওহাব। কিন্তু পরিস্থিতি একই জায়গায় রয়েছে। মোস্তফা খানের চাকরি শুরু হয়েছিল নবম গ্রেড দিয়ে। এখন তিনি আছেন ষষ্ঠ গ্রেডে।

কিন্তু পদবি বদল হয়নি তার ও তার মতো আরও অনেকের। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গম গবেষণা কেন্দ্র ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ভূট্টা শাখা নিয়ে দিনাজপুরে প্রধান কার্যালয় করে বাংলাদেশ গম ও ভূট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট নামে একটি নতুন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেশে গম উৎপাদনের ৬৪ শতাংশ ওই অঞ্চলে হয়ে থাকে। বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট আইন ২৭(৫)ধারা ও জনপ্রশাসন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনবল সংক্রান্ত পদ সৃজনের আদেশের শর্তাবলি অনুযায়ী নতুন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পদোন্নতির সক্ষমতা অর্জনের আগ পর্যন্ত গম গবেষণা কেন্দ্র ও ভুট্টা শাখায় কর্মকর্তাদের নতুন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর না করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের চাকুরি প্রবিধানমালা অনুযায়ী পদোন্নতি প্রদানে কোন বাধা নেই বলে জানান কর্মরত বিজ্ঞানীরা।

তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের গম গবেষণা কেন্দ্র ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ভুট্টা শাখার কর্মরতদের পদোন্নতিতে বাধা কর্তৃপক্ষ। স্মরণীয়, জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয় আরোপিত শর্তাবলী পূরণ হয়নি, বিধায় কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক এখনও পদ সৃজন সম্ভব হয়নি এবং গম গবেষণা কেন্দ্র ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের ভুট্টা শাখায় কর্মকর্তাদের নতুন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরও সম্ভব হয়নি। গম গবেষণা ইনস্টিটিউরে উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডক্টর মো. আব্দুল হাকিম সাংবাদিকের জানিয়েছেন, তিনি এরই মধ্যে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তিনি জানান, তার সিরিয়াল ১৭ নম্বরে। কিন্তু ১৮ থেকে ২২ নম্বর সিরিায়ালের ৫ জন এরই মধ্যে পদোন্নতি পেয়েছেন। বঞ্চিত হয়েছেন কেবল তিনি। আইনে পদোন্নতি বন্ধ রাখলেও কেউ কেউ পদোন্নতি পাওয়ায় অসমতা তৈরি হয়। তিনি মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে অন্যসহকর্মীসহ পদোন্নতি আশা করেন। সকলের জন্য একই রীতি অনুসরণ করার পক্ষে তিনি। পদোন্নতি পাওয়া ব্যক্তিদের একজন হলেন আবু হেনা মোস্তফা কামাল। ডক্টর সালাউদ্দিন আহমেদ এখন পদোন্নতির জন্য অপেক্ষমান আছেন। বৃহস্পতিবার [১৪ মে ২০২০] একটি সভা হওয়ার কথা। কিন্তু আইন অনুযায়ী তিনিও পদোন্নতি পাচ্ছেন না এই আভাস রয়েছে। ডক্টর সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আগে যেভাবে অপশন ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, একইভাবে অন্যদের পদোন্নতি না দেওয়া হলে অনেকের জীবনে অন্ধকার নেমে আসবে।

তিনি আরো বলেন, আমি এখনো বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে নয়, কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকেই বেতন নিচ্ছি। ফলে পদোন্নতিটা আগের নিয়মেই পেতে চাই। জাতীয় সংসদে আইন পাশ হয়ে ২০১৭ সালের ২২ নভেম্বর গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে এই নতুন প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয়। আইনের ২৭(৫) ধারা অনুযায়ী গম গবেষণা কেন্দ্র ও ভুট্টা শাখায় কর্মরতরাই নতুন ইনস্টিটিউটের কর্মচারি হবেন। কিন্তু, পুরানো প্রতিষ্ঠানের কর্মরতরা নতুন প্রতিষ্ঠানে যেতে আগ্রহী কিনা সে ব্যাপারে অপশন দিতে বলার নিয়ম থাকা স্বত্তেও কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে কোন অপশন দেওয়া হয়নি বলে জানান ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। কিন্তু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সিনিয়র সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, বর্তমানে যে পরিপত্র জারি আছে, তাতে আগে যে অপশন ব্যবস্থা ছিল, তা বাতিল হয়েছে। এখন আর অপশনের সুযোগ নাই। ২০১১ সালের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের চাকরি প্রবিধান মালার শর্তের কারণে অনেকে একই স্থানে আটকে থাকার ঘটনা ঘটছে। অথচ পটুয়াখালী কৃষি কলেজ, হাজী মোহাম্মদ দানেশ কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হওয়ার সময় ওই সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অপশন প্রদানের বিষয়টি আইনের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এই সুযোগটি নিতে চান কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক গম গবেষণা কেন্দ্র ও ভুট্টা শাখার কর্মরত ব্যক্তিরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিজ্ঞানী জানান, মানুষের জন্যই আইন।

আইন বদলাতে বা আগের আইনে ফেরত যেতে বাধা কোথা, কল্যাণের স্বার্থে। কৃষি গবেষণায় নতুন মহাপরিচালক হিসাবে রোববার [১০ মে ২০২০] যোগদান করেছেন ডক্টর মো. নাজিরুল ইসলাম। তিনি মহাপরিচালক পদে নতুন হওয়ায় তার উপস্থিতিতে গণমাধ্যমে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মাহমুদুল হাসান মঙ্গলবার [১২ মে ২০২০] জানিয়েছেন, গম গবেষণা ইনস্টিউট আলাদা হলেও এখনও সব কাজ শেষ হয়নি। কিছু বিষয় প্রক্রিয়াধীন। চলতি বছরের ১৮ মার্চ কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে একটি আদেশ জারি হয়। এর ফলে পদোন্নতির আশাবাদীরা ফল পচ্ছেন না। সোমবার ফোনে নাজিরুল ইসলামের বক্তব্য চাওয়া হয়েছিল।

তিনি মঙ্গলবার অফিস থেকে বক্তব্য দিবেন বলে জানানোর পর এই তথ্য দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রতিষ্ঠান হিসেবে একটি নতুন অরগানোগ্রাম, নতুন পদ সৃজন, সার্ভিস রুল, বোর্ড গঠন, নিয়োগ বা পদোন্নতি কমিটি প্রয়োজন হয়। কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৮৮৫টি পদের উল্লেখ করে একটি অরগানোগ্রাম প্রস্তাব করা হয়। ওই প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কাজ থেকে শর্ত দিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়কে অস্থায়ীভাবে ৪৪১টি পদ সৃজনের সম্মতি দিয়ে একটি অরগানোগ্রাম এর অনুমোদন দেয়। জনস্বার্থে দিনাজপুরে বাংলাদেশ গম ও ভুট্টা গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকারভিত্তিক নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি। এটি বাস্তবায়নে যেন কোন বিজ্ঞানী কর্মচারি ক্ষতির মুখে না পড়ে এটি ভুক্তভোগীদের আশা।