আংগারিয়া ইউপি নির্বাচনী সহিংসতায় আহত রাজ্জাক মোল্যার মৃত্যু

0
2

খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্র্রতিনিধিঃ শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থকদের সহিংসতায় আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা (৬০) নামে এক বৃদ্ধ আহত হয়।

তিনি আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন বলে জানাগেছে। ২৬ নভেম্বর শুক্রবার ভোর পাঁচটায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

আব্দুর রাজ্জাক মোল্যা আংগারিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের চরযাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। গত ৭ নভেম্বর স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সমর্থকদের হামলায় আহত হন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ১১ নভেম্বর শরীয়তপুর সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।

ভোট গ্রহনকে সামনে রেখে গত ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় আংগারিয়া ইউনিয়নের পাকার মাথা এলাকায় নির্বাচনী ক্লাবে আসমা আক্তারের ১০ থেকে ১২ জন সমর্থক বসে ছিলেন।

ওই সময় আনোয়ার হোসেন হাওলাদারের সমর্থকেরা ক্লাবের সামনের সড়ক দিয়ে মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়।

এক পর্যায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেনের হাওলাদারের কর্মী-সমর্থকেরা আসমা আক্তারের সমর্থকদের উপর হামলা করে।

হামলায় আবদুর রাজ্জাক মোল্যা , বাবু মোল্যা, আক্তার মোড়ল, সেলিম ওঝা ও মনির হোসেনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়।

এই হামলায় নৌকার নির্বাচনী ক্লাব, মোটর সাইকেল, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসত ঘর ভাঙ্গচুর ও লুটপাট করা হয়। আহত ব্যক্তিদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুর রাজ্জাক মোল্যার পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন। ওই হামলার ঘটনায় ৬৮ জনের নাম উল্লেখ করে পালং মডেল থানায় একটি মামলা করেন মনির হোসেন।

হামলায় আহত বাবু মোল্লা জানায়, তার পিতা রাজ্জাক মোল্লাসহ সপরিবারে ঢাকার কেরানীগঞ্জে থেকে ব্যবসা করতেন। নির্বাচন উপলক্ষে বাপ-ছেলে গ্রামে আসেন।

এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও তার সমর্থকদের রোশানলে পড়েন। সেখানে বাপ ছেলে সহ অনেককে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।

তার আহত পিতাকে প্রথমে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে, সেখান থেকে ঢাকার আজগর আলী হাসপাতালে ও পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার পিতা মারা যান।

চেয়ারম্যান আনোয়ার হাওলাদার বলেন, রাজ্জাক মোল্যা যে ঘটনায় আহত হয়েছিলেন সেই ঘটনার সাথে আমি বা আমার সমর্থকরা জড়িত নই। তার মৃত্যু অনাকাঙ্খিত। এই মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী আসমা আক্তার বলেন, রাজ্জাক মোল্যাকে আনোয়ার হোসেন হাওলাদার ও তার লোকেরা কুপিয়ে আহত করে পরে তার মৃত্যু হয়। এ হত্যার ঘটনায় হত্যা মামলা করা হবে।

পালং মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আক্তার হোসেন বলেন, এই হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছিল। মামলার অনেক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনজন এখনো কারাগারে। বাকিরা জামিনে আছেন।

হামলার ঘটনায় আহত রাজ্জাক মোল্যা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এখন এই মামলা হত্যা মামলায় রূপ নিবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here