অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে থমকে গেছে জনজীবন, বিপাকে লাখ লাখ বণ্যপ্রাণী

অস্ট্রেলিয়ায় ৪ মাসের দাবানলে শুধু জনজীবনই থমকে যায়নি বিপাকে পড়েছে লাখ লাখ বণ্যপ্রাণি। ক্যাংগারু, কোয়ালাসহ মারা পড়েছে প্রায় অর্ধকোটি। আগামী দিনে পুড়ে মরার শঙ্কায় অনেক প্রাণি। বলা হচ্ছে, গেলো ৪ মাসের উষ্ণতা ভেঙেছে ১২০ বছরের রেকর্ড। পরিবেশবিদদের দাবি, মূলত তীব্র দাবদাহ, অনেকদিন ধরে চলা খরা আর ঝড়ো বাতাসের কারণে প্রকৃতির এমন ভয়ঙ্কর রূপ। দাবানল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

অস্ট্রেলিয়ার দাবানল থেকে প্রাণে বাঁচতে নিরন্তর ছুটে চলা। ছুটছে শত শত ক্যাংগারু। কেউবা আবার কিংকর্তব্যবিমূঢ়। শুধু মানুষই নয় ৪ মাস ধরে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া রাজ্যে চলা দাবানলে এমন করুণ পরিণতি লাখ লাখ বন্যপ্রাণীর।

সবচেয়ে বিপদে, বিলুপ্তির ঝুঁকিতে থাকা শান্ত প্রাণীখ্যাত কোয়ালা। এদের বেশিরভাগেরই বাস অস্ট্রেলিয়ার বনাঞ্চলে। ৪ মাসে দাবানলে প্রাণ গেছে অন্তত ৮ হাজার কোয়ালার। বলা হচ্ছে, নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রায় ৩০ ভাগ কোয়ালাই মারা পড়েছে।

পুড়ে ধ্বংস ১২শরও বেশি ঘরবাড়ি এবং ৫৫ লাখ হেক্টর জমি। আয়তনে যা ওয়েলসের চেয়েও দ্বিগুন। জ্বলছে ন্যাশনাল পার্কও। পরিবেশকর্মীদের দাবি, প্রায় ৫০ কোটি বন্যপ্রাণী পুড়ে ছাই। তালিকায় আছে স্তন্যপায়ী, পাখি ও সরিসৃপও।

৭১ বছর এখানে বাস করছি। ক্যাংগারু আইল্যান্ডে এমন দাবানল আগে কখনো দেখিনি। হাজার হাজার ঘর পুড়ে গেছে। আমার ভাইয়ের অনেক পোষাপ্রাণী ছাড়াও ৩ হাজার ভেড়া পুড়ে মারা গেছে।

অ্যাডিলেইড উপকূলের ক্যাংগারু আইল্যান্ডে যোগ দিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। দাবানল নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের দক্ষ বাহিনী।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেন, দাবানল আরও কয়েকমাস চলবে। তাই ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় আরও ২শ কোটি ডলার অর্থায়ন করবে সরকার।

দেশটির জাতীয় পরিবেশ বিজ্ঞান প্রকল্প জানায়, গ্রিন হাউজ গ্যাস বাড়ার কারণে ভবিষ্যতে আগুনের মাত্রা বাড়বে।

পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক মাইকেল ম্যান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবে আগুন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

মাইকেল ম্যান আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই ভয়াবহ রুপ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার এ দাবানল। এ জন্য অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান রাজনীতিও দায়ী। তারা কার্বন নিঃস্বরণের মাত্রা কমানোর কোনো উদ্যোগ নেই। বরং নতুন নতুন কয়লা খনি চালু হচ্ছে। এতে তাপমাত্রা আরও বাড়বে। আরও ভয়াবহ রুপ নেবে পরিস্থিতি।

আবহাওয়া পূর্বাভাস বলছে, ঝড়ো হাওয়াতে বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে আগুন।