অভয়মিত্র মহাশ্মশান বছরের পর বছর উন্নয়ন বঞ্চিত; অনুদান দিলেন নওফেল

মোঃরাশেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ অবহেলা ও অযত্নে পড়ে আছে দেওয়ান বাজার ওয়ার্ডের অধীন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচালিত বলুয়ার দীঘি পাড়ের অভয়মিত্র মহাশ্মশান। বছরের পর বছর কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। যেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সৎকার করা হয়। মহাশ্মশানটি প্রায় ১৭-১৮ বছর ধরে প্রতি বর্ষা মৌসুমে ও জোয়ারের পানিতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে ডুবছে। ফলে অন্তিম যাত্রায়ও জলদুর্ভোগের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের। এছাড়া খাল ও নালার ময়লা-আবর্জনা ঢুকে নষ্ট হচ্ছে শ্মশানের পবিত্রতা।

১৯ আগস্ট হাঁটু পানিতে সৎকারের একটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। যা নাড়া দেয় সনাতন ধর্মালম্বীদের। সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। গতকাল শুক্রবার সরেজমিন দেখা যায়, শ্মশানের ভেতর বিভিন্ন জায়গায় কাদাপানি জমে আছে।

মহাশ্মশানে কাজ করা ডোম লিটন দাস বলেন, ‘এইরকম পরিবেশে দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর ধরে কাজ করছি।’
জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর ধরে মহাশ্মশান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি পদে আছেন ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী ও সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন প্রকৌশলী ও সাবেক কাউন্সিলর বিজয় কুমার চৌধুরী কৃষান।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন মহাশ্মশান উন্নয়নে এত বছর ধরে দায়িত্বপ্রাপ্তরা কি করলো?

স্থানীয়রা জানান, মহাশ্মশান পরিচালনা পরিষদ শ্মশান উন্নয়নের চেয়ে বেশি তৎপর ছিলেন মন্দিরের বার্ষিক উৎসব নিয়ে। ফলে শ্মশানের উন্নয়নে কারো কোনোরকম মাথাব্যথা নেই। এ কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে।

এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন, সাবেক মেয়র এম মনজুর আলম ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট অভয়মিত্র মহাশ্মশানে যাতে জোয়ারের পানি না ঢোকে সে জন্য শ্মশান উঁচুকরণ, আশ্রয় শেড নির্মাণ, গ্যাস ও লাকড়ির চুল্লি উঁচুসহ এ শ্মশানের সংস্কারকাজ অবিলম্বে শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন। কিন্তু অদৃশ্য কারণে নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া আরেক সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন গত বছরের ১৮ নভেম্বর মহাশ্মশানের চুল্লি ও জোয়ারের পানি-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই আশ্বাস আর বাস্তবে রূপ পায়নি।

ফেসবুকে অশোক চক্রবর্তী নামে একজন লেখেন ‘বিগত ২০ থেকে ৩০ বছর ধরে এই বলুয়ার দীঘি শ্মশান বিষয়ে যে সব কমিটি ছিল তারা চরম ভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের সদিচ্ছার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। পূর্ববর্তী কমিটি দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে নতুনদের সুযোগ করে দিলে সবার জন্যে মঙ্গল হতো। অনেক তো হয়েছে। উন্নয়ন করার ইচ্ছে থাকলে বিগত ২০ বছরেই হতো।’

শিক্ষা-উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী গতকাল শুক্রবার চার লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেছেন। এরমধ্যে তিন লাখ টাকা মহাশ্মশানের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য এবং বাকি ১ লাখ টাকা একটি কালী মন্দিরের জন্য। ভবিষ্যতেও মহাশ্মশানের উন্নয়নে তার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান অভয়মিত্র মহাশ্মশান পরিচালনা পরিষদের সভাপতি কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী।