অভিমান ভেঙে আবারও হলিউডের বড় পর্দায় ফিরবেন ‘লিন্ডসে লোহান’

প্রতি মুহূর্তে ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক, মিডিয়ার সত্য–অসত্য মিলিয়ে নানা খবর, অল্প বয়সেই খ্যাতির চূড়ান্ত বিড়ম্বনা দেখা, মাদকাসক্তি—সব মিলিয়ে ২০১৬ সালে ‘প্রবলেম সেলিব্রিটি’ লিন্ডসে লোহান বিদায় জানান হলিউডকে। ডেইলি মেইল এর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে, সংবাদমাধ্যমগুলো নিরন্তর তাঁর পেছনে লেগে থাকাকে। চার বছর পর অভিমান ভেঙে লিন্ডসে লোহান জানালেন, ফিরছেন তিনি। নিয়মিত হবেন সিনেমা আর গানে। ‘পেজ সিক্স’ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

৩৩ বছর বয়সী এই মার্কিন গায়িকা ও নায়িকা এখন আছেন ওমানের মাসকটে। সেখান থেকেই অনলাইন ভিডিও সাক্ষাৎকারে অ্যান্ডি কোহেন ও অ্যান্ডারসন কুপারের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেছেন, ২০২০ সালের তাঁর প্রতিজ্ঞা হলো, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরবেন। আর ফিরবেন হলিউডের বড় পর্দায়।

 

‘মিন গার্লস’ ছবির তারকা লিন্ডসে লোহান বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি ফিরব। এ বিষয়ে বোনের সঙ্গে আলাপ হচ্ছিল। ওকেও বললাম। আমি এখন আবার আমার ক্যারিয়ারে মনোযোগী হতে চাই। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে সিনেমার শুটিং করতে চাই। আমি আবার আমার আগের জীবনে ফিরতে চাই। কঠোর পরিশ্রম করতে চাই। আর নিজের পরিবার আর আপনাদের সঙ্গে নিজেকে ভাগ করে নিতে চাই।’২০১৩ সালে ‘দ্য ক্যানিয়নস’ ছবির দীর্ঘ ছয় বছর পর ‘অ্যামং দ্য শ্যাডোজ’ ছবিতে অভিনয় করেছেন লিন্ডসে লোহান। ২০১৯ সালের ৫ মার্চ মুক্তি পায় ছবিটি। একজন ইউরোপীয় প্রেসিডেন্টের স্ত্রীর চরিত্রে। স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করা একদল খুনিকে খুঁজে বের করতে তিনি যে গোয়েন্দাকে নিয়োগ দেন, সেটি আদতে এক নেকড়ে। বেঁচে থাকার জন্য মানুষের রক্ত পান করতে হয় তাঁকে।

এবার হলিউডের ছবিতে নিয়মিত হবেন এই তারকা। কেবল অভিনয়েই নয়, গানেও ফিরবেন। শিগগিরই বের হবে তাঁর নতুন সিঙ্গেল। ১১ বছর ব্যক্তিগত নানা ঝামেলায় ছিলেন লিন্ডসে লোহান। মাদক সেবন, কারাগারে যাওয়া, মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে যাওয়া, হতাশাসহ নানা কারণে নতুন গানে মনোযোগ দিতে পারেননি। গত বছর সেপ্টেম্বরে ‘জ্যান্যাক্স’ নামের একটি গান মুক্তি পায়।২০১৯ সালের অক্টোবরে খবর বের হয়, ‘মিন গার্লস’ তারকা লিন্ডসে লোহানকে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একটি ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন উপহার দিয়েছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে লিন্ডসে লোহানের বাবা মাইকেল লোহান যুক্তরাজ্যের দ্য ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, তাঁর মেয়ের সঙ্গে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শ্রদ্ধার সম্পর্ক রয়েছে।

তাঁদের ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ উল্লেখ করে মাইকেল লোহান আরও বলেন, তাঁদের মধ্যে কোনো ক্রেডিট কার্ডও বিনিময় হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে লিন্ডসে লোহান যেসব কাজ করছেন, সেই সুবাদে তিনি মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে দেখা করেছেন। লিন্ডসে লোহান অঞ্চলটির (মধ্যপ্রাচ্য) লোকজন, বিশেষ করে শরণার্থীদের সহায়তায় কাজ করছেন।

মাইকেল লোহান আরও বলেন, লিন্ডসে লোহান সিরিয়ায় যেসব ভালো কাজ করেছেন, তা নিয়ে কেউ লিখছে না। তারা শুধু বাজে কথা শুনতে চায়। মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে লিন্ডসে লোহানের নিষ্কাম ও শ্রদ্ধার সম্পর্ক রয়েছে। এর চেয়ে বেশি কিছু নয়।