অভিনেতা মজিবুর রহমান দিলু আর নেই

বিশিষ্ট অভিনেতা, নাট্য পরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান দিলু আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর।

মঙ্গলবার (১৯ জানুয়ারি) ভোর ৬.৪৬ মিনিটে মারা যান তিনি। ইউনাইটেড হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার সানাউল কবির নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় অভিনেতা মুজিবুর রহমান দিলুকে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়। ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। হাসপাতালে ডা. ওমর ফারুকের তত্ত্বাবধানে ছিলেন এ অভিনেতা।

নাট্যকার আতাউর রহমান তার বড় ভাই। আতাউর রহমান বলেছেন, আমার ছোট ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা, কীর্তিমান মঞ্চ ও টেলিভিশান অভিনেতা মুজিবুর রহমান দিলু নিউমনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আজ সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে এই পৃথিবীর মায়া ছেড়ে অসীমের যাত্রী হয়েছেন। সে জীবন যুদ্ধে যেমন ছিল এক পরাক্রান্ত সৈনিক, তেমনি ছিল এক বর্ণিল জীবনের অধিকারী। তার আত্মার চির শান্তি কামনাই দেশবাসীদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা।

গতকাল তার ছেলে অয়ন রহমান জানিয়েছিলেন, অভিনেতার ফুসফুসের ৭০ ভাগই আক্রান্ত হয়েছিল। করোনা নেগেটিভ হলেও তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন।

এর আগে ২০০৫ সালে বারি সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়েছিলেন দিলু। তারপর ২০১৫ সালে তার রক্তে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়েছিল। এছাড়া কিডনিতে দুটো পাথরও দেখা দিয়েছিল। তখন চিকিৎসায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছিলেন এ অভিনেতা।

সম্প্রতি তিনি ফুসফুসের অসুখে ভুগছিলেন। গত ১২ জানুয়ারি তার শরীরের অবস্থার অবনতি ঘটে। জরুরি ভিত্তিতে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাকে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

১৯৫২ সালের ৬ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মুজিবুর রহমান দিলু। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে অভিনয় শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৭৬ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিয়মিত অভিনয় করছেন। বিটিভির কালজয়ী  ধারাবাহিক নাটক ‘সংশপ্তক’-এ বড় মালু চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিলেন। অনেকের কাছে তিনি মালু নামেই পরিচিত ছিলেন।

তার উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটক হচ্ছে ‘আমি গাধা বলছি’, ‘নানা রঙ্গের দিনগুলি’, ‘জনতার রঙ্গশালা’, ‘নীল পানিয়া’, ‘আরেক ফাল্গুন’, ‘ওমা কী তামাশা’ প্রভৃতি। তবে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় নাটক ‘তথাপি’, ‘সময় অসময়’ ও ‘সংশপ্তক’–এ অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ছিলেন ছোটদের সংঠন ‘টোনাটুনি’র প্রধান সমন্বয়কারী। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘ঢাকা ড্রামা’ নামে একটি নাট্যগোষ্ঠী।