অভাবতাড়িত মানুষদের নিয়ে ভারতে কিডনি বিক্রি করাতো নাজিম

টাকার প্রয়োজন মিটাতে নিজের কিডনিটিই প্রথম বিক্রি করেছিলো নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার নাজিম উদ্দিন (৩৮)।  এরপর থেকে এলাকার বোকাসোকা অভাবতাড়িত মানুষদের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কিডনি বিক্রি করিয়ে শুরু করে সে কিডনি বাণিজ্য।

নাজিম পূর্বধলা উপজেলার শানখলা গ্রামের মৃত উমেদ আলীর ছেলে। কিডনি বিক্রিতে সম্মতি দেয়া ব্যক্তির একটি পাসপোর্টসহ নাজিমকে এবার আটক করেছে নেত্রকোণা পুলিশের সদস্যরা।

একসময়কার অপরিচিত এই নাজিম কর্মগুণে বর্তমানে বেশ পরিচিত ও সমালোচিত একটি নাম। তবে দিশেহারা ঋণগ্রস্ত মানুষদের কাছে ‘শেষ আশ্রয়স্থল’ হিসেবেও রয়েছে তার ব্যাপক খ্যাতি। নাজিম গত কয়েক বছরে অভাবতাড়িত কমপক্ষে ১০/১২ জনকে বাংলাদেশীকে ভারতে নিয়ে কিডনি বিক্রি করিয়েছেন। আর কারো জীবন জলাঞ্জলি দিয়ে বিক্রি করা কিডনির টাকায় মোটা অংকে ভাগ বসিয়েছে নাজিম। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে নেত্রকোণা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ্ নূর এ আলম  এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, পুলিশ পুরিদর্শক আজাহারুল ইসলাম, উপ-পরিদর্শক (এসআই) তপন চন্দ্র বাকালী, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মশিউল হকের যৌথ অভিযানে আটক হয়েছে নাজিম।

জেলা সদরের বাগড়া বাজার এলাকা তথা নেত্রকোণা- ময়মনসিংহ সড়ক থেকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তাকে আটক করা হয়। আটকের পর তার বিরুদ্ধে পৃথক আইনে দুইটি মামলা দায়ের করে তাকে সোপর্দ করা হয়েছে আদালতে।