অব্যাহত রয়েছে মারুফা হত্যার প্রতিবাদ

জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলায় কিশোরী মারুফা হত্যার সুষ্ঠ বিচারের দাবিতে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। বুধবার (২৭মে) দুপুরে পৌরসভার মার্কাস রোডে সাবেক ছাত্রনেতা কামরুজ্জামান কামরুলের নের্তৃত্বে এ আন্দোলনে একাত্মতা জানায় শত শত মানুষ। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ মারুফা হত্যার প্রতিবাদে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।

এ ঘটনায় এ পর্য্যন্ত হত্যার দায়ে অভিযুক্ত কাঞ্চন চেয়ারম্যানের নিজ বাসার সামনের সড়কসহ কলমাকান্দা, বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ ও নেত্রকোণা পৌর শহরেও অসংখ্য মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে এবং ছাত্র সমাজ বিচারের দাবিতে সোচ্চার রয়েছে পুরো জেলাজুড়ে।

এ সময় বক্তারা বলেন, কিশোরী মারুফা হত্যাকান্ডটি প্রথমে আত্মহত্যা বলে ধামচাপা দিতে চেয়েছে। জনতা সোচ্ছার হওয়ায় সেটি সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও দেখে বুঝা যাচ্ছে এটি নিরীহ একটি ছেলের ঘারে চাপিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। প্রতিবাদকারীরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মারুফা হত্যার বিষয় যদি জজ মিয়া নাটক সাজানো হয়। জনগণ তা মেনে নিবে না, আন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে।

মারুফা হত্যা মামলার প্রধান আসামি নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মাহবুব মোর্শেদ কাঞ্চন গ্রেফতারের একদিন পরই জামিনে ছাড়া পেয়ে যান। এতে করে এলাকাবাসীর মাঝে সুষ্ঠু বিচার নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই পুরো জেলার মারুফা হত্যার সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সকল মানুষ একাট্টা হয়ে ক্রমশই এ আন্দোলন দেশ থেকে বিদেশেও ছড়িয়ে পড়ছে।

উল্লেখ্য, গত ৯মে (শনিবার) বিকালে বারহাট্টা সিংধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মাহবুব মোর্শেদ কাঞ্চনের মোহনগঞ্জের হাসপাতাল রোডের বাসায় কিশোরী মারুফা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। কিশোরী মারুফা আক্তার আত্মহত্যা করেছে বলে লাশ নিয়ে চেয়ারম্যান কাঞ্চন নিজেই হাসপাতালে যান। পরে শিশুটির গায়ে শরীরের স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন দেখে হাসপাতালের এবং স্থানীয় মানুষদের মাঝে সন্দেহ হলে থানায় খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্তের পর লাশ মারুফার বাবার বাড়ি সিংধা এলাকায় চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে হওয়ায় ভয়ে কলমাকান্দা নানার বাড়িতে নিয়ে দাফন কার্য্য সম্পন্ন করে।

চেয়ারম্যান বিভিন্ন ভাবে মারুফার মা আকলিমা আক্তারকে ভয় ভীতি দেখিয়ে আত্মহত্যা মামলা লিপিবদ্ধ করানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে। পরে বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঘটনাস্থল মোহনগঞ্জ থানা ১১ মে (সোমবার) অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যানকে ওইদিন সন্ধ্যায় আটক করে ১২মে (মঙ্গলবার) আদালতে প্রেরণ করে। পরে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে প্রথমে নিম্ন আদালতে হাজির করা হলে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান আদালত । ১৪মে (বৃহস্পতিবার) জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করলে চার্জশিট আদালতে প্রেরণের আগেই জামিনে বেরিয়ে যান কাঞ্চন চেয়ারম্যান।

এদিকে, ছাত্রসমাজের আন্দোলনের মুখে রহস্যজনক মারুফা আক্তার হত্যা মামলাটি নেত্রকোনা সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) মোহনগঞ্জ থানার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মারুফা হত্যার প্রতিবাদে জেলার বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ জনগণ পদযাত্রা, মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে।