অব্যাহত ভাঙ্গনে প্রাইমারি স্কুলসহ ৫০০ বসত বাড়ি পদ্মায় বিলীন

খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর প্রতিনিধি: এক বছরের ব্যবধানে পদ্মা আবার আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে। পদ্মার প্রবল স্রোতে নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ইউনিয়নের ৮১ নং বসাকেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একতলা একটি ভবন ২৯ জুলাই বুধবার দুপুর ২টায় মূহুর্তেই বিলীন হয়ে গেছে পদ্মাগর্ভে। ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যালয়ের অপর দ্বী-তল ভবনটি। এছাড়া ৪টি মসজিদ, একটি নুরানী মাদ্রাসাসহ জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার ৫০০টি বসত বাড়ি পদ্মার ভাঙ্গনে বিলীন হয়েছে।

প্রত্যক্ষদশীরা বলছেন স্রোতের গতি আরও বৃদ্ধি পেলে ভাঙ্গন আরও ভয়াবহ হতে পারে। নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন, বসাকেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, উজানের পানি নামতে শুরু করার পর থেকেই পদ্মা বেষ্টিত জাজিরা ও নড়িয়া উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দেয়। বুধবার দুপুর ২টার দিকে নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ইউনিয়নের বসাকেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একতলা একটি পাকা ভবন মুহুর্তের মধ্যেই চলেগেছে পদ্মাগর্ভে। ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে ওই বিদ্যালয়ের অপর দ্বি-তল ভবনটিও।

এই ভবনটিও যে কোন সময় গ্রাস করবে আগ্রাসী পদ্মা। পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলের শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিতে ১৯৪২ সালে উপজেলার চরআত্রা ইউনিয়নের ৮১ নং বসাকেরচর স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিলীন হওয়া ভবনটি ২০১৫/২০১৬ অর্থ বছরে ৩২ লক্ষা টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয়েছিল। এই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ভবনটিও নদীগর্ভে বিলীন হলে অনিশ্চিত হয়ে পরবে ৩৭৫ জন কোমলমতি শিশুর শিক্ষা জীবন। এ দিকে স্রোতের তোরে আজ চরআত্রা ইউনিয়নের বসাকের চরের ৫০টি বসত বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। জাজিরা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা আশরাফ উজ্জামান ভুইয়া জানান,

পদ্মার প্রবল স্রোতে এ যাবত জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর, বড়কান্দি ও নাওডোবা ইউনিয়নের ৪০৩ টি বসত বাড়িসহ অনেক ফসলী জমি বিলীন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ভাঙ্গন কবলিতদের মাঝে ত্রান বিতরণ করা হয়েছে এবং ত্রান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়ন্তী রূপা রায় জানান, পদ্মার প্রবল স্রোতে আজ চরাত্রা ইউনিয়নের বসাকেরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একতলা একটি পাকা ভবন পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়েছে।

৩০ গজ দুরত্বে থাকা অন্য দ্বি-তল ভবনটিও রয়েছে ভাঙ্গন ঝুঁকিতে। এছাড়াও আজ বসাকেরচরের ৫০টি বসত বাড়ি নদিগর্ভে চলেগেছে। এর আগে আরো ৪৫ টি বসত বাড়ি পদ্মায় বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিতদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, পদ্মার স্রোত বাড়ার সাথে সাথে আমরা স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে স্কুল ভবনটি রক্ষার জন্য জিওব্যাগ ডাম্পিং করেও শেষ রক্ষা হলো না।

তবে ঝুঁকির বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে অবহিত করা ছিল। বর্ষা মৌসুম চলে যাওয়ার পর ওই সকল শিক্ষার্থীদের পড়া-শোনা চালু রাখার জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত কাজ চলছে। ওই সকল পরিবারগুলোকে ঘর নির্মানের জন্য ঢেউটিন ও নগদ টাকা দেয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।