অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, সৌন্দর্য হারাচ্ছে দোহারের মিনি কক্সবাজার

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি : অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও স্তুপ করে বিক্রির ফলে হুমকিতে পাকা সড়ক, সেতু, কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থাপনা । ধ্বংসের মুখে আ বাদি জমিসহ প্রাকৃতিক পরিবেশ। ফলে সৌন্দর্য হারাচ্ছে দোহারের মধ্যে অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র মৈনটঘাট। ঢাকার দোহার উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে মৈনটঘাট (মিনি কক্সবাজার ) নামে বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে কয়েক বছর আগেই।

রাজধানীর গুলিস্তান থেকে মাত্র ৪৫ কিলোমিটারের পথ। তাই পহেলা বৈশাখ, ঈদ, বিশেষ দিবস ও অন্যান্য দিনে হাজারো দর্শনার্থীদের ঢল নামে এই ঘাটে। পদ্মায় বুকে জেগে উঠা ছোট বড় চর আর নদীর জলরাশি মুগ্ধ করেছে দর্শনার্থীদের।

কিন্তু একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা ড্রেজার দিয়ে পদ্মা নদী থেকে বালু তুলে ওই বালু ট্রাকে করে অন্যস্থানে নিয়ে যাচ্ছে। এ সময় ধূলায় আচ্ছাদিত হয়ে যাচ্ছে পুরো মৈনটঘাট এলাকা। প্রথম দেখায় মনে হয় যেন শীতের ঘন কুয়াশা। এ সময়ে দর্শনার্থীদের মুখমণ্ডলও ধুলাবালিতে মেখে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ,তিন চারটি ড্রেজার দিয়ে বালু তুলে মৈনটে স্তুপকারে জমা করে রাখা হয়। পরে ট্রাকের সাহায্যে বালু যাওয়া হয় বিভিন্ন এলাকায়।
অনেকে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতাদের নাম ভাঙিয়ে বালু তুলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের সাথে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।
মৈনটঘাট-সংলগ্ন এলাকায় এলোমেলোভাবে বালু রাখার কারণে দর্শনাথীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে । মৈনটঘাট এলাকা অবৈধ দখলদারদের কবলে চলে যাওয়ায় মৈনটের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট ও পরিবেশ হুমকির মধ্যে পড়েছে।
দর্শনার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৈনট সম্পর্কে যে ধারণা নিয়ে আসে বাস্তবে তার উল্টো চিত্র দেখতে পাচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন।
প্রতিদিন রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসেন বেড়ানোর জন্য। কিন্তু মৈনটে এসে বিরূপ ধারনা নিয়ে ফেরেন তারা। অথচ মৈনট যদি পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকত তাহলে দর্শনার্থী স্বাভাবিকভাবেই বাড়ত বলে ধারণা করেন অনেকেই।
রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৈনটে ঘুরতে এসে জানালেন তাদের অভিজ্ঞাতার কথা।

তারা জানান, ইউটিউব ও ফেসবুকে মৈনট সম্পর্কে ভালো ধারণা পেয়ে এখানে এসেছি। কিন্তু অতিমাত্রায় ধুলাবালির কারণে এখানে চলাফেরা করা খুবই কষ্টকর।

এ ব্যাপারে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ আক্তার রিবা চ্যানেল এস কে জানান, মৈনটের সৌন্দর্যকে বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনিকভাবে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। কিন্তু একটি অসাধুচক্র পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন করে স্তুপাকারে রাখায় মৈনটের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে। খুবই শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে এগুলো উচ্ছেদের উদ্যোগ নেয়া হবে।