অবশেষে মারুফা হত্যার মামলা সিআইডিতে হস্তান্তর

জাহাঙ্গীর আলম, নেত্রকোণা প্রতিনিধিঃ ছাত্র সমাজের আন্দোলনের মুখে অবশেষে বহুল আলোচিত মারুফা আক্তার হত্যা মামলাটি নেত্রকোণা সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) মোহনগঞ্জ থানার ইনচার্জ মোহাম্মদ আবদুল আহাদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, মোহনগঞ্জের চাঞ্চল্যকর মারুফা মামলাটি অধিকতর তদন্ত করার জন্য সিআইডি- কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মোহনগঞ্জ থানা থেকে মামলার নথিপত্র সিআইডি বুঝে নিয়েছে। লাশ হাসপাতাল থেকে থানায় নেয়ার পর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফেসবুকে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে সুষ্ঠু বিচারের জন্য হাজার খানেক আইডি থেকে লেখা অব্যাহত রয়েছে।

তাছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনসহ নেত্রকোণা জেলার ছাত্র ও যুব সমাজের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। নেত্রকোণা জেলা সদর, মোহনগঞ্জ, কলমাকান্দা ও বারহাট্টা সদর ছাড়াও বিভিন্ন বাজারসহ গ্রামে-গঞ্জে প্রতিদিনই মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসুচী পালিত হচ্ছে। যুব সমাজ এমপি, সাবেক আমলাসহ জনপ্রতিনিধি নীরব কেন মর্মে ফেইসবুকে লেখা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৯মে (শনিবার) বিকালে বারহাট্টা সিংধা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ মাহবুব মোর্শেদ কাঞ্চনের মোহনগঞ্জের হাসপাতাল রোডের বাসায় কিশোরী মারুফা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যু হয়। কিশোরী মারুফা আক্তার আত্মহত্যা করেছে বলে লাশ নিয়ে চেয়ারম্যান কাঞ্চন নিজেই হাসপাতালে যান। পরে শিশুটির গায়ে শরীরের স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন দেখে হাসপাতালের এবং স্থানীয় মানুষদের মাঝে সন্দেহ হলে থানায় খবর দেয়। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্তের পর লাশ মারুফার বাবার বাড়ি সিংধা এলাকায় চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে হওয়ায় ভয়ে কলমাকান্দা নানার বাড়িতে নিয়ে দাফন কার্য্য সম্পন্ন করে। চেয়ারম্যান বিভিন্ন ভাবে মারুফার মা আকলিমা আক্তারকে ভয় ভীতি দেখিয়ে আত্মহত্যা মামলা লিপিবদ্ধ করানোর জন্য চাপ প্রয়োগ করে।

পরে বিভিন্ন প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঘটনাস্থল মোহনগঞ্জ থানা ১১ মে (সোমবার) অভিযোগ দাখিল করেন। পুলিশ অভিযোগের ভিত্তিতে চেয়ারম্যানকে ওইদিন সন্ধ্যায় আটক করে ১২মে (মঙ্গলবার) আদালতে প্রেরণ করে। পরে অভিযুক্ত চেয়ারম্যানকে প্রথমে নিম্ন আদালতে হাজির করা হলে জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান আদালত । ১৪মে (বৃহস্পতিবার) জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করলে চার্জশিট আদালতে প্রেরণের আগেই জামিনে বেরিয়ে যান কাঞ্চন চেয়ারম্যান।