অনেক বছর কেঁদেছি, কারও কান্নাতেই আর গলব না: নির্ভয়ার মা

সাত বছর পর নির্ভয়া কাণ্ডের রায় এসেছে। দিল্লির ওই ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত চারজনের ফাঁসি ২২ জানুয়ারি কার্যকর করা হবে। দীর্ঘদিন পর এ আদেশে কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছে নির্যাতিতার পরিবার।

এদিকে দোষীদের মৃত্যুদণ্ডের সাজা বজায় থাকায় নির্ভয়ার মা বলেছেন, ‘সাত বছর ধরে কেঁদেছি আমি। চোখের জল শুকিয়ে গেছে। পাথর হয়ে গেছি। এখন কেউ এসে কেঁদে ক্ষমা চাইলেও মন গলবে না। আমার মেয়েটার সঙ্গে যা হয়েছে সেটা কোনোদিন ভুলতে পারব না। এটাই স্বস্তি, অন্তত মেয়েটা বিচার পাবে।’

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লির ওই গণধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতে শিউরে ওঠে গোটা ভারত। খোদ রাজধানীতে রাতের রাস্তায় ছয়জনের হাতে গণধর্ষণের শিকার হন প্যারামেডিক্যালের তরুণ ছাত্রী। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয় তাকে। পরে ওই নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা ‘নির্ভয়া কাণ্ড’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়ে।

আদালতে সাজা ঘোষণার আগে নির্ভয়ার মায়ের সামনে এক দোষীর মা কান্না শুরু করেন। ছেলের প্রাণভিক্ষাও চান তিনি। তবে শান্ত গলায় নির্ভয়ার মায়ের জবাব, ‘আমার সঙ্গে যা হয়েছে ভুলতে পারব না। যে অবস্থায় ওকে (মেয়েকে) হাসপাতালে দেখেছিলাম তা যে কতটা ভয়ানক হতে পারে হয়তো সেটা আন্দাজও করতে পারবে না কেউ। কোনো হিংস্র জানোয়ার ছিঁড়ে খেলেও বোধহয় আমার মেয়েটার এমন হাল হতো না।’

নির্ভয়ার মা-বাবা দু’জনই বলেন, এবার অন্তত অপরাধীরা ভয় পাবে। দেশের সব মেয়ের জন্যই এ রায় দরকার ছিল। সাত বছর আগে নিজের মেয়েকে হারিয়েছি। আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে তা যেন আর কারও সাথে না হয়। সাত বছর ধরে তিলে তিলে মরছি। দোষীদের চরমতম শাস্তির আশায় এতদিন অপেক্ষায় ছিলাম। এবার মেয়েটা বিচার পাবে।

দীর্ঘ সাত বছর পর নির্ভয়া কাণ্ডের রায় এসেছে। ছয়জন দোষীর মধ্যে একজন আগেই জেলের মধ্যে আত্মহত্যা করেছিল। ঘটনার সময় নাবালক থাকায় কয়েকবছর জেল খেটে ছাড়া পেয়েছে একজন। বাকি চারজনের ফাঁসির সাজা দিয়েছে পাতিয়ালা হাউস কোর্ট। রায় অনুযায়ী ২২ জানুয়ারি তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হবে।

নির্ভয়া কাণ্ডে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত চারজন হলেন- পবন গুপ্তা, অক্ষয় ঠাকুর, মুকেশ সিং এবং বিনয় শর্মার। দেশটির তিহাড় জেলে তৈরি হচ্ছে নতুন ফাঁসির মঞ্চ। সেখানে একই ফাঁসির মঞ্চে তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হবে।